
নয়া দিল্লি : রাজ্যপাল পদে জগদীপ ধনখড় দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে একের পর এক ইস্যুতে রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধী দেখা গিয়েছে রাজ্যপালের। বগটুই নিয়েও চাপান-উতোর কম হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্যপালের চিঠি বিনিময়ও হয়েছে। বগটুই-কাণ্ডের আঁচ এখনও কাটেনি। আর সেই আবহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সোমবার সকালে দিল্লিতে শাহের সঙ্গে জগদীপ ধনখড়ের দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। কী ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি কেউই। তবে, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা অনুমান করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বগটুই-কাণ্ডের পর একদিকে যেমন অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপি সাংসদরা। অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদরাও গিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। আর সেখানে গিয়ে রাজ্যপালের অপসারণের দাবি জানান তাঁরা। তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ কথা জানিয়েছিলেন। আর তারপরই অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যপাল।
বগটুই-কাণ্ডে রাজ্যের ভূমিকা নিয়েই এ দিন রাজ্যপাল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্ভবত, রাজ্য পুলিশের ভূমিকার কথাও বলেছেন রাজ্যপাল। বোমা-বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেওয়ার পরই তৎপর হয়েছে পুলিশ। এই ইস্যুতে আলোচনায় উঠেছিল বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি, সম্প্রতি বিধানসভায় রাজ্যপাল ভাষণ দিতে গেলে পরিস্থিতি উত্তাল হয়েছিল। বাজেট অধিবেশন শুরুর দিনই সেই ঘটনা ঘটে। এই সাক্ষাৎকারে সম্ভবত উঠে এসেছিল সেই প্রসঙ্গও।
উল্লেখ্য, অধীর চৌধুরী, সৌমিত্র খাঁ-এর মতো বিরোধী দলের সাংসদরা রাজ্যে ৩৫৫ ধারা জারি করার দাবি জানিয়েছেন। ৩৫৫ ধারার অর্থ হল কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ। আর তারপরই রাজ্যপালের সাক্ষাৎ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্র আগেই জানিয়ে দিয়েছে যে আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়, তাই কেন্দ্র এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না।
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari: ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে…’, সাসপেনশনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত শুভেন্দুর