TMC Rebel MP: ঝুলে NCPI স্বীকৃতি, তৃণমূলের ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদ পরিচয়েই NDA বৈঠকে সুদীপ-কাকলিরা
NDA Meeting Today: আগে দেখা গিয়েছিল, স্পিকারের মান্যতা ছাড়াই সর্বদলীয় বৈঠকে ডাক পেয়েছিলেন কাকলি-সুদীপরা। তা নিয়ে শোরগোল তৈরি হয়। বিরোধীরা প্রতিবাদ করেছিল। একটা দল কোনও রকম স্বীকৃতি ছাড়া, কীভাবে বৈঠকে ডাক পায়, সেই দাবি তুলে প্রতীকী ওয়াকআউটও করেছিলেন বিরোধীরা। এরপরই দেখা যায়, গত সপ্তাহের বৈঠকে এনডিএ সাংসদরা ডাক পাননি।

নয়া দিল্লি: ভোটের ফলের পরই ‘বিক্ষুব্ধ’ হয়েছিলেন কাকলি-শতাব্দী-সুদীপরা। তৃণমূল থেকে বেরিয়ে এনসিপিআইতে মিশে গিয়ে এনডিএ-র শরিক হয়েছেন। কিন্তু, তারপরেও একটা প্রশ্ন উঠছে বারবার। কাকলি-সুদীপ-শতাব্দীরা কি এনসিপিআই সাংসদ নাকি তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদ? কারণ, এখনও এনসিপিআই-কে সংসদীয় দল হিসেবে মান্যতা দেননি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। বিষয়টা এখনও বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু, এরই মধ্যে আজ এনডিএ সাংসদদের বৈঠকে ডাক পেয়েছেন কাকলি-সুদীপরা। সেক্ষেত্রে, প্রশ্ন উঠছে কোন দলের সাংসদ পরিচয়ে বৈঠকে ডাক পেয়েছেন তাঁরা?
তৃণমূলের পরিচয়েই NDA বৈঠকে কাকলিরা
ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। প্রথমেই ভাঙন ধরে সংসদীয় দলে। ফলপ্রকাশের পরই ‘বেসুরো’ হতে শুরু করেন কাকলি, শতাব্দীরা। দিল্লিতে গিয়ে ভুপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করতে দেখা যায় কাকলি, রচনা, শতাব্দী, দেব-দের। প্রথমে জল্পনা চলছিল, বিজেপিতেই যোগ দেবেন তাঁরা। জল্পনার মাঝেই সংসদীয় রাজনীতিতে তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। কাকলি, সুদীপ-সহ ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ ঘোষণা করলেন, তৃণমূল থেকে বেরিয়ে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন তাঁরা। এনডিএ-র শরিক দলের সাংসদ হিসেবেই কাজ করবেন। সেক্ষেত্রে এনসিপিঅইকে যাতে সংসদীয় দলের মান্যতা দেওয়া হয়, তার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন করেছিলেন তাঁরা। বাদল অধিবেশনের প্রায় এক মাস আগেই আবেদন করেছেন। কিন্তু, অধিবেশনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরও এনসিপিআই আলাদা সংসদীয় দল হিসেবে মান্যতা পায়নি। সেক্ষেত্রে, এখনও লোকসভার ওয়েবসাইটে কাকলি-সুদীপদের পরিচয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ। তাই এনডিএ-র বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ হিসেবেই যোগ দিয়েছেন।
বঙ্গ রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ?
এদিকে, বাদল অধিবেশন শুরুর আগে সর্বদলীয় বৈঠকে ডাক পেয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। কিন্তু, তা নিয়ে শোরগোল তৈরি হয়েছিল। প্রতিবাদ করেছিলেন বিরোধীরা। একটা দল কোনও রকম স্বীকৃতি ছাড়া, কীভাবে বৈঠকে ডাক পায়, সেই দাবি তুলে প্রতীকী ওয়াকআউটও করেছিলেন । এরপর দেখা যায়, গত সপ্তাহে এনডিএ সাংসদদের বৈঠকে ডাক পাননি কাকলি-সুদীপরা। তবে, আজ তাঁদের ডাকা হলেও তৃণমূল সাংসদের পরিচয়েই বৈঠকে যোগ দিতে হয়েছে।
বঙ্গ রাজনীতিতে আরও একটা জল্পনা চলছে। এবার কি কাকলি-সুদীপরা বিজেপি সাংসদই হয়ে যাবেন? এনসিপিআই কি সরাসরি বিজেপিতেই মিশে যাবে? রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। সোমবারই নবান্নে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। আসলে, আজ দিল্লিতে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু, ব্যস্ত থাকার কারণে দিল্লিতে না যেতে পারায় সোমবার নবান্নেই সুদীপের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু। দু’জনের সাক্ষাতের পর থেকেই জল্পনা বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, কাকলি-শতাব্দীদের বিজেপিতে মিশে যাওয়া কি এবার সময়ের অপেক্ষা?
