প্রত্যেকদিন লাফিয়ে বাড়ছে জনসংখ্যা। আর তারই সঙ্গে কমে আসছে প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার। ভারতে জলসংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। জলে উঠে আসছে আর্সেনিক-সিসার মতো মহা ভয়াবহ ধাতু! এমতাবস্থায় মানুষকে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে অতীতের এক জলব্যবস্থা। মাটির অনেক নিচে, গোলকধাঁধার মতো নেমে যাওয়া সিঁড়িওয়ালা কুয়ো, বা স্টেপওয়েল আজও কতটা প্রাসঙ্গিক―সে বিষয়ে আইডিয়া আছে? জলভাণ্ডার রক্ষা করে জলসঙ্কট সামাল দিতে এই স্টেপওয়েলই ভরসা হবে আগামীতে…
শত শত বছর আগে তৈরি এই পাথরের জলাধারগুলো একসময় ছিল ভারতের জনজীবনের প্রাণভোমরা। পানীয় জল, কৃষি, শিল্প—সব কিছুরই নির্ভরতা ছিল এই কুয়োগুলোর উপর। একই সঙ্গে, এগুলো ছিল মানুষের মিলনস্থল, সংস্কৃতির কেন্দ্র। সময়ের অবহেলা, দূষণ আর লাগামছাড়া নগরায়ণের চাপে আজ অধিকাংশ স্টেপওয়েলই ধ্বংসের মুখে। আর ঠিক এই জায়গাতেই সামনে এগিয়ে এসেছেন এক মানুষ—অরুণ কৃষ্ণমূর্তি। প্রায় দু’দশক ধরে অরুণ ও তাঁর সংগঠন Environmental Foundation of India অর্থাৎ EFI ভারতের মৃতপ্রায় জলাশয়গুলোকে নতুনভাবে জীবন দান করে চলেছেন। লেক, পুকুর, জলাধার—সব মিলিয়ে ১৯টি রাজ্যে ৬৫৭টি জলাশয় ইতিমধ্যেই পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। আর এবার তাঁর নতুন লক্ষ্য—প্রায় হারিয়ে যাওয়া স্টেপওয়েলগুলোকে বাঁচানো।
তবে একটা জিনিস বুঝতে হবে এখানে। স্টেপওয়েল সংস্কার বাড়ি সারানোর মতো সহজ কাজ নয়। এর জন্য দরকার প্রাচীন নির্মাণকৌশল, স্থানীয় কারিগরদের আগের প্রজন্মের অভিজ্ঞতা এবং সূক্ষ্ম হাইড্রোলজিক্যাল বোঝাপড়া। কোথায় বাঁধ তৈরি হয়েছিল, কোথায় গাছ লাগানো হত, জল কোন পথে প্রবাহিত হত—সব কিছুর নেপথ্যেই বিজ্ঞান আছে।
EFI ইতিমধ্যেই রাজস্থানের আলওয়ারে মুসি রানি সাগর স্টেপওয়েলকে ফিরিয়ে এনেছে প্রাণে। একসময় এই কুঁয়োর জল আবর্জনায় ভরে গিয়েছিল, ভেঙে পড়ছিল পাথরের গাঁথুনি—আজ সেখানে গেলে দেখবেন স্বচ্ছ, পরিষ্কার জল। আশার কথা এই যে, ২০২৬ সালের মধ্যে আরও অন্তত ছ’টি স্টেপওয়েল সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে EFI-এর।
ভারত নদীর দেশ। দেশের ইতিহাস বরাবরই জলের সঙ্গে জড়িয়ে। হিমালয়ের হিমবাহ থেকে দক্ষিণের জলাভূমি—এই দেশ জলেই গড়ে উঠেছে। এখানে জল শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, জল অনেকের কাছে ঈশ্বরতুল্য। সেই পবিত্রতাকেই আমরা আজ দূষিত করছি অবিবেচক আচরণে, আবর্জনায় এবং উদাসীনতায়। আমাদের ঔদাসীন্যই সমাজের সঙ্কটের মূল কারণ, না এটা আমি বলছি না, বলছেন অরুণ কৃষ্ণমূর্তি। তবু হাল ছাড়তে নারাজ তিনি। স্কুলে সচেতনতা কর্মসূচি, দেওয়ালচিত্র, স্থানীয় মানুষকে যুক্ত করে জলাধারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে EFI।
ভারতের জলের ভবিষ্যৎ আজ আমাদের হাতে। আর ভবিষ্যতে পানীয় জলের সঙ্কট কতটা কাটবে, তার উত্তরও লুকিয়ে আছে অতীতের গর্ভে। পাথরের সিঁড়ি বেয়ে নেমে যাওয়া সেই নীরব, প্রাচীন কুয়োগুলোর গভীরে রয়েছে আমাদের সুস্থ ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। অতএব, বাড়িতে কুয়ো থাকলে অরুণ কৃষ্ণমূর্তির কথা একবার ভাবুন। রাবিশ ফেলে বুজিয়ে না দিয়ে চেষ্টা করুন কুয়ো সংস্কার করে ফেলার।
প্রত্যেকদিন লাফিয়ে বাড়ছে জনসংখ্যা। আর তারই সঙ্গে কমে আসছে প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার। ভারতে জলসংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। জলে উঠে আসছে আর্সেনিক-সিসার মতো মহা ভয়াবহ ধাতু! এমতাবস্থায় মানুষকে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে অতীতের এক জলব্যবস্থা। মাটির অনেক নিচে, গোলকধাঁধার মতো নেমে যাওয়া সিঁড়িওয়ালা কুয়ো, বা স্টেপওয়েল আজও কতটা প্রাসঙ্গিক―সে বিষয়ে আইডিয়া আছে? জলভাণ্ডার রক্ষা করে জলসঙ্কট সামাল দিতে এই স্টেপওয়েলই ভরসা হবে আগামীতে…
শত শত বছর আগে তৈরি এই পাথরের জলাধারগুলো একসময় ছিল ভারতের জনজীবনের প্রাণভোমরা। পানীয় জল, কৃষি, শিল্প—সব কিছুরই নির্ভরতা ছিল এই কুয়োগুলোর উপর। একই সঙ্গে, এগুলো ছিল মানুষের মিলনস্থল, সংস্কৃতির কেন্দ্র। সময়ের অবহেলা, দূষণ আর লাগামছাড়া নগরায়ণের চাপে আজ অধিকাংশ স্টেপওয়েলই ধ্বংসের মুখে। আর ঠিক এই জায়গাতেই সামনে এগিয়ে এসেছেন এক মানুষ—অরুণ কৃষ্ণমূর্তি। প্রায় দু’দশক ধরে অরুণ ও তাঁর সংগঠন Environmental Foundation of India অর্থাৎ EFI ভারতের মৃতপ্রায় জলাশয়গুলোকে নতুনভাবে জীবন দান করে চলেছেন। লেক, পুকুর, জলাধার—সব মিলিয়ে ১৯টি রাজ্যে ৬৫৭টি জলাশয় ইতিমধ্যেই পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। আর এবার তাঁর নতুন লক্ষ্য—প্রায় হারিয়ে যাওয়া স্টেপওয়েলগুলোকে বাঁচানো।
তবে একটা জিনিস বুঝতে হবে এখানে। স্টেপওয়েল সংস্কার বাড়ি সারানোর মতো সহজ কাজ নয়। এর জন্য দরকার প্রাচীন নির্মাণকৌশল, স্থানীয় কারিগরদের আগের প্রজন্মের অভিজ্ঞতা এবং সূক্ষ্ম হাইড্রোলজিক্যাল বোঝাপড়া। কোথায় বাঁধ তৈরি হয়েছিল, কোথায় গাছ লাগানো হত, জল কোন পথে প্রবাহিত হত—সব কিছুর নেপথ্যেই বিজ্ঞান আছে।
EFI ইতিমধ্যেই রাজস্থানের আলওয়ারে মুসি রানি সাগর স্টেপওয়েলকে ফিরিয়ে এনেছে প্রাণে। একসময় এই কুঁয়োর জল আবর্জনায় ভরে গিয়েছিল, ভেঙে পড়ছিল পাথরের গাঁথুনি—আজ সেখানে গেলে দেখবেন স্বচ্ছ, পরিষ্কার জল। আশার কথা এই যে, ২০২৬ সালের মধ্যে আরও অন্তত ছ’টি স্টেপওয়েল সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে EFI-এর।
ভারত নদীর দেশ। দেশের ইতিহাস বরাবরই জলের সঙ্গে জড়িয়ে। হিমালয়ের হিমবাহ থেকে দক্ষিণের জলাভূমি—এই দেশ জলেই গড়ে উঠেছে। এখানে জল শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, জল অনেকের কাছে ঈশ্বরতুল্য। সেই পবিত্রতাকেই আমরা আজ দূষিত করছি অবিবেচক আচরণে, আবর্জনায় এবং উদাসীনতায়। আমাদের ঔদাসীন্যই সমাজের সঙ্কটের মূল কারণ, না এটা আমি বলছি না, বলছেন অরুণ কৃষ্ণমূর্তি। তবু হাল ছাড়তে নারাজ তিনি। স্কুলে সচেতনতা কর্মসূচি, দেওয়ালচিত্র, স্থানীয় মানুষকে যুক্ত করে জলাধারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে EFI।
ভারতের জলের ভবিষ্যৎ আজ আমাদের হাতে। আর ভবিষ্যতে পানীয় জলের সঙ্কট কতটা কাটবে, তার উত্তরও লুকিয়ে আছে অতীতের গর্ভে। পাথরের সিঁড়ি বেয়ে নেমে যাওয়া সেই নীরব, প্রাচীন কুয়োগুলোর গভীরে রয়েছে আমাদের সুস্থ ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। অতএব, বাড়িতে কুয়ো থাকলে অরুণ কৃষ্ণমূর্তির কথা একবার ভাবুন। রাবিশ ফেলে বুজিয়ে না দিয়ে চেষ্টা করুন কুয়ো সংস্কার করে ফেলার।