
লখনউ: তিনি যে ‘পাপ্পু’ নন, প্রমাণ করে দেখালেন। শুধু ওয়েনাড নয়, রায়বরেলীতেও জয় ছিনিয়ে আনলেন রাহুল গান্ধী। তাও আবার মায়ের প্রাপ্ত ভোটের রেকর্ড ভেঙে! ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেরই পুনরাবৃত্তি করলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। শুধু বদলেছে আসন। ২০১৪ সালে যেখানে ওয়েনাডের (Waynad) পাশাপাশি আমেঠী থেকে জয়ী হয়েছিলেন, সেখানেই এবার রায়বরেলী (Rae Bareli) থেকে জয়ী হয়েছেন রাহুল। কিন্তু দুই আসন থেকে তো আর সাংসদ থাকতে পারবেন না রাহুল গান্ধী। তাহলে কোন আসন ছাড়বেন তিনি? সেই আসনেই বা কে দাঁড়াবেন?
ওয়েনাড আসন থেকে আগেই প্রার্থী হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেখানে ভোট মেটার পরই রায়বরেলী থেকে প্রার্থী করা হয় রাহুল গান্ধীকে। যদিও জল্পনা ছিল, আমেঠী থেকেই ফের প্রার্থী হতে চলেছেন রাহুল। কিন্তু ২০১৯-র হারের পর আর ওই পথ মাড়াননি রাহুল। বেছে নেন মায়ের গড়, রায়বরেলীকেই। এবং সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল নয়, তার প্রমাণও পেয়েছেন। রায়বরেলী ও ওয়েনাড-দুই আসন থেকেই তিন লাখেরও বেশি মার্জিনে জয়ী হয়েছেন রাহুল।
দুই আসনে জয়ের পরই জল্পনা শুরু হয়েছে যে কোন আসনের সাংসদ হবে রাহুল এবং কোন আসনটি ছেড়ে দেবেন তিনি। গতকালই রাহুল গান্ধী জানান, এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। তবে জল্পনা শোনা যাচ্ছে, এবার ওয়েনাড আসন ছেড়ে দিতে পারেন রাহুল। মায়ের দেখানো পথেই হয়তো হাঁটবেন তিনি। ১৯৯৯ সালে আমেঠী ও বেল্লারি আসন থেকে লড়েছিলেন সনিয়া গান্ধী এবং দুই আসন থেকেই জয়ী হন। যেহেতু আমেঠী থেকে বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন সনিয়া, তাই সেই আসনেই সাংসদ হন তিনি। ছেড়ে দেন বেল্লারি আসন।
এই নির্বাচনে ওয়েনাডে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪২২ ভোটে জিতেছেন রাহুল গান্ধী, সেখানেই রায়বরেলী থেকে ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৩০ ভোট পেয়েছেন। যদি মায়ের দেখানো পথই অনুসরণ করেন, তবে রাহুল গান্ধী এবার ওয়েনাড ছেড়ে রায়বরেলী থেকে সাংসদ হবেন।
সেক্ষেত্রে ওয়েনাডের আসনে উপ-নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। এমনটাই জল্পনা শোনা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত গান্ধী পরিবার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তাই-ই দেখার।