
নয়া দিল্লি: লোকসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ(NDA)। কিন্তু সবার নজরে ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Alliance) ফলাফল। বিশেষ করে নজর কেড়েছে কংগ্রেসের (Congress) ফলাফল। যারা এক সময়ে সবথেকে বড় দল থেকে প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছিল, তারাই আবার ফিনিক্স পাখির মতো উঠে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৯৯ আসনে জয়ী কংগ্রেস। শেষবার কংগ্রেস ভোটের নিরিখে তিন সংখ্য়া পার করেছিল ২০০৯ সালে। সেই বছর ২০৬ আসনে জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস। দ্বিতীয়বারের জন্য তৈরি হয়েছিল মনমোহন সিংয়ের সরকার।
বিগত দুটি লোকসভা নির্বাচনেই বিজেপি যেখানে দারুণ ফল করেছিল, সেখানেই ক্রমাগত অবনতি হয়েছিল কংগ্রেসের। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র ৪৪টি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস, ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৫২টি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস। সে বছর কংগ্রেসের কাছে আরও বড় ধাক্কা ছিল আমেঠী আসন হারানো। ওই আসন থেকে হেরে যান রাহুল গান্ধী।
২০১৪ সাল থেকে কংগ্রেসের যে পতন হয়েছিল, তার প্রধান কেন্দ্রই ছিল হিন্দিবলয়। গুজরাট থেকে রাজস্থান, বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ- সর্বত্র বয়েছিল মোদী ঝড়। ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৩৩৬টি আসনেই জয়ী হয়েছিল বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। বিজেপি একাই ২৮২ আসন পেয়েছিল। উত্তর প্রদেশে মাত্র দুটি আসনেই জিতেছিল কংগ্রেস। আমেঠী ও রায়বরেলী।
২০১৯ সালে বিজেপির জয়ের পথ আরও মসৃণ হয়। বিজেপি একাই পেয়েছিল ৩০৩ আসন। জোটসঙ্গীদের নিয়ে ৩৫৩ আসনে জয়ী হয়ে কেন্দ্রে ফের ক্ষমতায় ফেরে এনডিএ। সেখানেই কংগ্রেস আরও ধাক্কা খায়। আমেঠীতে রাহুলের হার সেই কাটা ঘায়ে আরও নুনের ছিটে ছিল।
যে হিন্দি বলয় থেকে ভোট হারিয়েছিল কংগ্রেস, ২০২৪ সালের নির্বাচনে সেখানেই আবার ধীরে ধীরে উত্থান হয়েছে কংগ্রেসের। পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতে কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তেলঙ্গানা ও কর্নাটকে শাসক দল হওয়ার সুবিধাও কিছুটা হলেও পেয়েছে কংগ্রেস। যদিও সেখানে আসন সংখ্যার হারে এগিয়ে বিজেপিই। বিহারে যেখানে ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে কংগ্রেস, সেখানেই কেরলে ১৪টি আসনে জয়ী। মোদীর গড় গুজরাটেও একটি আসন ছিনিয়ে নিতে পেরেছে কংগ্রেস। পঞ্জাবেও তুলনামূলকভাবে ভাল ফল কংগ্রেসের। রাজ্যের শাসক দল আম আদমি পার্টি যেখানে ৩টি আসন পেয়েছে, সেখানেই কংগ্রেস ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে।