Om Birla: বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব আনতে নোটিস দিতেই বড় সিদ্ধান্ত ওম বিড়লার, চাপে পড়লেন রাহুলরা?

Lok Sabha speaker Om Birla: সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদের আওতায় লোকসভার স্পিকারকে পদ থেকে সরানো যেতে পারে। তবে এর জন্য লোকসভার সাংসদদের ভোটাভুটির মাধ্যমে স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাশ করাতে হবে। সংসদের নিয়ম বলছে, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় চেয়ারে থাকতে পারেন না স্পিকার।

Om Birla: বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব আনতে নোটিস দিতেই বড় সিদ্ধান্ত ওম বিড়লার, চাপে পড়লেন রাহুলরা?
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাImage Credit source: PTI

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Feb 10, 2026 | 8:02 PM

নয়াদিল্লি: বিরোধী জোটে আলোচনা চলছিলই। অবশেষে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে নোটিস দিল বিরোধীরা। মঙ্গলবার দুপুরে লোকসভার সচিবালয়ে ওই নোটিস দেওয়া হয়েছে। আর বিরোধীরা নোটিস দেওয়ার পরই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি জানিয়ে দিলেন, অনাস্থা প্রস্তাবের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংসদের অধিবেশনে যোগ দেবেন না তিনি।

ওম বিড়লাকে স্পিকারের পদ থেকে সরানোর দাবিতে লোকসভায় কংগ্রেসের ডেপুটি লিডার গৌরব গগৈ এদিন নোটিসটি জমা দেন। নোটিস জমা দেওয়ার পর গৌরব গগৈ বলেন, “লোকসভায় বিরোধী দলনেতাকে (রাহুল গান্ধী) বারবার তাঁর বক্তব্য রাখতে বাধা দেওয়া হয়েছে। একাধিক বিরোধী দল এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।” জানা গিয়েছে, ওই নোটিসে ১২০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। তাতে কংগ্রেসের পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকে সাংসদরা সই করেছেন। তবে তৃণমূল সাংসদরা স্বাক্ষর করেননি বলে জানা গিয়েছে।

সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদের আওতায় লোকসভার স্পিকারকে পদ থেকে সরানো যেতে পারে। তবে এর জন্য লোকসভার সাংসদদের ভোটাভুটির মাধ্যমে স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাশ করাতে হবে। সংসদের নিয়ম বলছে, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় চেয়ারে থাকতে পারেন না স্পিকার।

সূত্রের খবর, তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থ প্রস্তাবের নোটিস জমা পড়ার পরই সংসদে না আসার সিদ্ধান্ত নেন স্পিকার। ঘনিষ্ঠমহলে তিনি জানিয়েছেন, লোকসভার কিছু সদস্যের তাঁর উপর আস্থা কমেছে। ফলে অনাস্থা প্রস্তাবের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংসদের কার্যকলাপে অংশ নেবেন না তিনি। সরকার পক্ষ এবং বিরোধীরাও অনুরোধ করলেও তিনি আপাতত সংসদে আসবেন না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সূত্রের খবর, তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা যত দ্রুত সম্ভব হোক, তা চান ওম বিড়লা। তবে তা ৯ মার্চের আগে সম্ভব নয়। ওই দিন বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দফা শুরু হবে।

বিজেপি নেতারা বলছেন, স্পিকার যে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা এদিন সকালেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। লোকসভার অচলাবস্থা কাটাতে সব বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন ওম বিড়লা। কিন্তু, সেই বৈঠকে তিনি গরহাজির থাকেন। তখনও অবশ্য নোটিস জমা দেয়নি বিরোধীরা। সেইসময় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু বলেছিলেন, যেহেতু স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে চর্চা হচ্ছে। তাই এই বৈঠকে উপস্থিত থাকা উচিত হবে না বলে স্পিকার মনে করেছেন। বাস্তবে দেখা গেল, নোটিস জমা পড়ার পর স্পিকার বার্তা দিলেন, অনাস্থা প্রস্তাবের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংসদের কার্যকলাপে অংশ নেবেন না তিনি। এতে রাহুল গান্ধীদের চাপ বাড়ল কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।