প্রেমের টানে বাড়ি ছাড়া, গিয়ে জানল প্রেমিক তো দুই বাচ্চার বাবা! তারপরও নাছোড় যুবতী, শেষে এমন দশা হল, গায়ে কাঁটা দেবে

Crime: গত বছর সিয়ার সঙ্গে সমীরের আলাপ হয় ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে। কিছুদিনেই বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। প্রেমের টানে তিন মাস আগে সিয়া মহারাষ্ট্র থেকে ভোপালে চলে আসে। তখন জানতে পারে যে সমীর বিবাহিত, তাঁর দুই সন্তানও রয়েছে। 

প্রেমের টানে বাড়ি ছাড়া, গিয়ে জানল প্রেমিক তো দুই বাচ্চার বাবা! তারপরও নাছোড় যুবতী, শেষে এমন দশা হল, গায়ে কাঁটা দেবে
নিহত যুবতী।Image Credit source: X

|

Feb 15, 2026 | 11:20 AM

ভোপাল: ফাঁকা জমি। তার ভিতরে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে বের হচ্ছিল পচা গন্ধ। বাচ্চারা খেলতে খেলতে ওই গন্ধ পেয়েছিল প্রথমে। সবাই ভেবেছিল কুকুর বা বিড়াল হয়তো পড়ে মরে গিয়েছে। কিন্তু ওই সেপটিক ট্যাঙ্কে উঁকি দিতেই চোখে পড়ল লোহার বাক্স। সেটা খুলতেই  ভিতরে দেখা গেল, পচাগলা দেহ।

বৃহস্পতিবার মধ্য প্রদেশের ভোপালে নিশাতপুরায় একটি সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে ৩৩ বছরের এক মহিলার পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। জানা যায়, ওই যুবতীর নাম আশরাফি ওরফে সিয়া। মহারাষ্ট্রের গোন্দিয়ায় তাঁর বাড়ি। এখানে তাঁর সমীর নামক এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। ওই যুবক বিবাহিত। অভিযোগ, গত সোমবার সমীর তাঁর পরিবারের সাহায্যে সিয়াকে খুন করে। শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় যুবতীকে। তারপর তাঁর দেহ লোহার বাক্সে ভরে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেওয়া হয়।

তদন্তে জানা গিয়েছে, গত বছর সিয়ার সঙ্গে সমীরের আলাপ হয় ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে। কিছুদিনেই বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। প্রেমের টানে তিন মাস আগে সিয়া মহারাষ্ট্র থেকে ভোপালে চলে আসে। তখন জানতে পারে যে সমীর বিবাহিত, তাঁর দুই সন্তানও রয়েছে।

তাও সিয়া বাড়ি ফেরেনি। কমলা নগরে থাকতে শুরু করে। এদিকে নিত্যদিন তাদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। সিয়ার সঙ্গে সমীরের স্ত্রীর প্রায় দিনই ঝগড়া হত। সিয়া সমীরকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকে। সমীরের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চায়। এমনকী, টাকা না দিলে আইনি পদক্ষেপের হুমকিও দেয়।

সমীরের স্ত্রী এই সব অশান্তির মাঝে বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যায়। চলতি সপ্তাহের সোমবার বিকালে সিয়া ও সমীরের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। রাগের মাথায় সমীর শ্বাসরোধ করে খুন করে সিয়াকে। অপরাধ ঢাকতে সমীর তাঁর মা, ভাই-বোনের সাহায্য নিয়ে লোহার বাক্সে ভরে দেহ সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেয়।

গত বৃহস্পতিবার পাড়ার কয়েকজন বাচ্চা খেলতে গিয়ে ওই দেহের হদিস পায়। যুবতীর হাতে একটি ট্যাটু করা ছিল, যাতে লেখা “২৬ মে, ১৯৯২”। ওই ট্যাটু দেখেই তাঁকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক সমীর। পুলিশ তাঁর মা ও ভাই-বোনকে আটক করেছে।