
নয়া দিল্লি: হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসছে ভারতীয় জাহাজ। তবে দেশে এলপিজি সঙ্কট এখনও কাটেনি, বরং আরও যেন গভীর হচ্ছে। এবার এলপিজি সঙ্কটের জেরে প্রভাব পড়ছে অন্যান্য ব্যবসাতেও। হোটেল-রেস্তোরাঁগুলি গভীর চিন্তায়। এলপিজি সিলিন্ডারের আকাল দেখা দেওয়ায় ভরসা এখন পুরনো দিনের মতো কাঠ, কয়লা ও উনুন। ছোটখাটো দোকানগুলি ইন্ডাকশন কুকটপ দিয়ে কাজ চালাচ্ছে। তবে রান্নার পদ্ধতি বদল হতেই খাবারের দামেও পরিবর্তন আসছে। ইতিমধ্যেই অনেক রেস্তোরাঁ মেনু কার্ডে বদল এনেছে, খাবারের দাম বাড়িয়েছে। অনেক খাবার আবার মেনু থেকে বাদ পড়ছে গ্যাসের খরচ কমাতে।
রমজান শেষে ইদের দিন ও তার পরে যেখানে বিরিয়ানির চাহিদা বিপুল থাকে, সেখানেই অনেক দোকান এখন ফাঁকা। বিরিয়ানি তৈরির খরচও বাড়ছে। দিল্লি থেকে চেন্নাই- রেস্তোরাঁ মালিকদের কথা, আগে শুধুমাত্র বিয়ে বাড়ি বা অনুষ্ঠানের অর্ডারে দম বিরিয়ানি কাঠের উনুনে রান্না হত। এখন রেস্তোরাঁর বিরিয়ানিও গ্য়াস ছেড়ে উনুনে রান্না করতে হচ্ছে। সাইড ডিশগুলিও বিরিয়ানির পাশাপাশিই কাঠের উনুনে রান্না করতে হচ্ছে। কাঠের দামও বেড়ে গিয়েছে। ফলে রান্নার খরচ বাড়ছে। অনেক রেস্তোরাঁ আবার জ্বালানি বাঁচাতে ডিপ ফ্রাই আইটেম বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহল বলছে, মধ্য প্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে হঠাৎ এলপিজি সঙ্কট দেখা দেওয়ায়, ৯০ শতাংশ হোটেলই এখন ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যবসা কমেছে হোটেলে। খরচ কমাতে অনেক বড় রেস্তোরাঁই এক জায়গায় বিরিয়ানি রান্না করে তা বিভিন্ন ব্রাঞ্চে সরবরাহ করছে। ইন্ডাকশন কুকটপে সেই খাবার গরম করে পরিবেশন করা হচ্ছে। অনেক হোটেল আবার আগে থেকে তৈরি পরোটা, রুটি মাইক্রোওয়েভে গরম করে পরিবেশন করছে।
এই ছবি শুধু হোটেল-রেস্তোরাঁয় নয়, গৃহস্থের বাড়িতেও। আগে যে কোনও উৎসব-অনুষ্ঠানে মন খুলে নিমন্ত্রণ করতেন অনেকে। কিন্তু এখন এলপিজি সঙ্কট দেখা দেওয়ায় অনেকেই সেই অভ্যাস ছেড়েছেন।