Mahua Moitra on TMC Rebels: ‘তৃণমূলে সিরিয়াল চলছে, কিউ কি গদ্দার ভি কভি…’, কেন সতীর্থরা বিদ্রোহী হলেন, আজ বলেই দিলেন মহুয়া
Mahua Moitra statement: কৃষ্ণনগরের সাংসদ বলেন, "আজ যে ১৯-২০ সাংসদ যারা আজ হিরোইন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তারা কী করেছেন। জগদীশ বসুনিয়ার স্ত্রী বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার- সকলে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের জন্য টিকিট চাইছিল। এরা এক মাস আগে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য প্রচার করছিল। সায়নী ঘোষ হেলিকপ্টারে ঘুরে প্রচার করত। সব জায়গায় বলছিল, বিজেপিকে সরাতে হবে। কী হল হঠাৎ?"

নয়া দিল্লি: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হার, তারপরই দলে ধরেছে ভাঙন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ‘স্নেহছায়া’ থেকে বেরিয়ে এখন অধিকাংশ সাংসদ-বিধায়কই বিদ্রোহী। এদের নিয়ে বোমা ফাটালেন তৃণমূল কংগ্রেসের কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। সরাসরি এদের ‘গদ্দার’ তকমা দিলেন। বিদ্রোহী সাংসদ-বিধায়কদের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, তাও বলে দিলেন তৃণমূল সাংসদ।
এক সাক্ষাৎকারে মহুয়া মৈত্র তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে বলেন, “সিরিয়াল চলছে। কিউ কি গদ্দার ভি কভি সাংসদ থে- এটাই সিরিয়ালের নাম। ১৮-১৯ যতজনই সাংসদ হোক না কেন, এরা দুই বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিকিটে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এদের কারোর নিজের ক্ষমতা নেই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার। ইউসূফ পাঠান বরোদায় একটা মিউনিসিপালিটিতেও জিততে পারবে না, কাকলি ঘোষ দস্তিদার ২০০৯ সালের আগে একটা কর্পোরেশনেও জিততে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিকিটেই জয়ী হয়েছেন। আমি মহুয়া মৈত্র নিজেকে যতই হিরোইন ভাবি না কেন, আমি কংগ্রেসে দাঁড়ালে আমার মা-বাবাও ভোট দেবে না। এটাই সত্যি। সবাইকে এটা স্বীকার করতে হবে।”
ভোটের অঙ্ক কষে মহুয়া বলেন, “এরা সবাই ২ বছর আগে তৃণমূলের টিকিটে জিতল। এক মাস আগে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হল, তাতে কী হল? ৩০ লক্ষ বৈধ ভোটারকে অ্যাডজুডিকেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হল। বিজেপি ২ কোটি ৯০ লাখ ভোট পেল। নির্বাচন কমিশন আমাদের বিপক্ষে ছিল, সব টাকার খেলা হয়েছে- এত প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ২ কোটি ৬০ লাখ ভোট পেয়েছে। ৩০ লাখ ভোটের ফারাক। যে ৮০ জন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিকিটে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখিয়েই নির্বাচনে জয়ী হয়ে এসেছে।”
বিদ্রোহীদের তোপ দেগে কৃষ্ণনগরের সাংসদ বলেন, “আজ যে ১৯-২০ সাংসদ যারা আজ হিরোইন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তারা কী করেছেন। জগদীশ বসুনিয়ার স্ত্রী বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার- সকলে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের জন্য টিকিট চাইছিল। এরা এক মাস আগে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য প্রচার করছিল। সায়নী ঘোষ হেলিকপ্টারে ঘুরে প্রচার করত। সব জায়গায় বলছিল, বিজেপিকে সরাতে হবে। কী হল হঠাৎ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো এক মাস আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন। এরা বলছে, অভিষেকের হিটলারগিরি চলছে, সে তো ২০২১ সালেও তিনি সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তখন তো ২১৩ সিটে জয়ী হয়েছিলাম আমরা। এক মাস আগে খবরদারি চলছিল না? এখন বিজেপি টাকা দিয়ে দিল, বলল আপনাদের কোনও বিরোধিতা করতে হবে না। এরা সবাই এখন উন্নয়ন করতে চাইছে। আপনাদের বিজেপির বিরোধিতা করার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। যদি বিজেপিতে থেকে উন্নয়ন করতে হয়, তাহলে আগে ইস্তফা দিন।”
আইনে কী বলা হয়েছে, তাও বুঝিয়ে দেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, “২০০৩ সালে সংবিধান সংশোধনী করা হয়। ৯১ তম সংবিধান সংশোধনীতে বলা হয় , দুই তৃতীয়াংশ হোক বা ১৯-২০ বা ২৩ জন সাংসদ হয়ে যাক, কোনও ব্লক বা অংশ (FRACTION)-কে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্র সরকারের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মামলায় সুপ্রিম কোর্টও বলেছে, কোনও আলাদা ব্লক হতে পারে না। শুধু সাংসদদের দুই তৃতীয়াংশ নয়, যদি আসল দলের দুই তৃতীংয়াশ সদস্যের শিবির হয়, তাহলে তারা বিজেপির সঙ্গে মার্জ বা এক হয়ে যেতে পারে। এদের হয় বিজেপির সঙ্গে মার্জ করতে হবে বা ইস্তফা দিয়ে বিজেপির টিকিটে জিতে আসতে হবে। আলাদা বসে এরা ইন্ডিয়া-র টিকিটে ঘুরবে আর এলাকায় গিয়ে সিআরপিএফের কাছে বলবে, আমাদের লোকজনের জন্য করেছি। এরা কেউ আমজনতার জন্য করেনি। ইউসূফ রহমান গুজরাটে জমি দখল করেছে, গুজরাট হাইকোর্ট বলেছে জবরদখলকারী, সেই ভয়ে করেছে। খলিলুর রহমান নিজের ব্যবসা বাঁচাতে করেছে, শতাব্দী রায়ের রোজভ্যালির কেস আছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার সারদা মামলায় অন ক্য়ামেরা ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছেন, সেই মামলা থেকে বাঁচতে এটা করছেন। খুব ভালো হয়েছে। এটা শুদ্ধিকরণ হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের প্রেম, বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য পরিচিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করতে পারেননি, বিজেপি তা করে দিয়েছে।”
তৃণমূলের শুদ্ধিকরণে খুব খুশি মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, “আমরা যারা বাকি আছি, তারা ভালোভাবে তৃণমূল কংগ্রেস করব। ২ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের ভোট এখনও আমাদের সঙ্গে আছে।”
