Mamata Banerjee: ‘দুদিন আগে আমি সামাজিক মাধ্যমে জানতে পারি…’, অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিলেন মমতা

Mamata Banerjee On Maharastra Plane Crash: শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, এই বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত চেয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও। তাঁর বক্তব্য, আসল কারণটা কী? সামনে আসা দরকার। বিমান দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র নেই তো। তিনি বলেন, "বহু বড় বড় পদ সামলেছেন। বড় ক্ষমতাশালী মানুষ। কিন্তু এভাবে মৃত্যু! ভাড়া করা প্লেনে যাচ্ছেন, তাঁর মৃত্য়ু হল, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করি। এত বড় ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করি।"

Mamata Banerjee: দুদিন আগে আমি সামাজিক মাধ্যমে জানতে পারি..., অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিলেন মমতা
গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মমতার, তদন্ত চাইলেন অধীরImage Credit source: TV9 Bangla

Jan 28, 2026 | 1:37 PM

কলকাতা:  বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের। আর এর নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সিঙ্গুরে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজন। অন্য কোনও কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দিয়ে নয়। বরং সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্ত হোক।” তাঁর বক্তব্য, “এই রাজ্যে একজন সাধারণ মানুষের তো বটেই, নেতানেত্রীরা সুরক্ষিত নন। আমি জানি না, এই দুর্ঘটনার পিছনে আসল কারণ কী। দুদিন আগে আমি সামাজিক মাধ্যমে জানতে পারি, অন্য এক দলের নেতা স্টেটমেন্ট দেন, অজিত পাওয়ার বিজেপি সঙ্গ ত্যাগ করতে চাইছি। আর তারপরই এই দুর্ঘটনা। আমি এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।”

প্রসঙ্গত, অজিত পাওয়ার ও তাঁর কাকা, এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন দলের দুই শিবির আবার এক হতে পারে—এমন আলোচনা চলছিল মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অলিন্দে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অজিত পাওয়ারের দল মাত্র একটি আসনে জয় পেলেও শরদ পাওয়ার শিবির জেতে আটটি আসন। তবে পরের বছর মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে চিত্র বদলে যায়—অজিত পাওয়ারের দল পায় ৪১টি আসন, আর শরদ পাওয়ার শিবির সীমাবদ্ধ থাকে ১০টিতে। এরপর বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফডনবিশের নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আবার দায়িত্ব নেন অজিত পাওয়ার। স্থানীয় নির্বাচনের আগে অজিত-শরদ পাওয়ার এক হয়ে যেতে পারে বলে জল্পনা চলছিল। তার  আগেই দুর্ঘটনা।

এদিকে, শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, এই বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত চেয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও। তাঁর বক্তব্য, আসল কারণটা কী? সামনে আসা দরকার। বিমান দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র নেই তো। তিনি বলেন, “বহু বড় বড় পদ সামলেছেন। বড় ক্ষমতাশালী মানুষ। কিন্তু এভাবে মৃত্যু! ভাড়া করা প্লেনে যাচ্ছেন, তাঁর মৃত্য়ু হল, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করি। এত বড় ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করি।”

অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “জননেতা অজিত পাওয়ারের সংযোগ ছিল তৃণমূল স্তরে। তাঁর অকাল প্রয়াণে আমি শোকস্তব্ধ। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা।”

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পোস্ট করেছেন, “অজিত পাওয়ারের মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। মহারাষ্ট্রের উন্নয়নের অজিতের ভূমিকা অবিস্মরণীয়।”

অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস বলেন, “এই ধরনের জননেতাকে হারানো, আমাদের সকলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। ব্যক্তিগতভাবে উনি আমার কাছে একজন দক্ষ নেতা ও বন্ধুও। আমরা দুজনে একসঙ্গে খারাপ পরিস্থিতিতেও কাজ করেছি। মহারাষ্ট্রের বিকাশের জন্য উনি যা অবদান রেখে গিয়েছেন, আরও অনেক কাজ করতে পারতেন, এরকমই পরিস্থিতি ছিল, এই সময়ে তাঁর চলে যাওয়া, যেন সব হারানো। আমার কাছে কোনও ভাষা নেই।”

বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ বারামতিতে পাহাড়ি এলাকায় অবতরণের সময়ে ভেঙে পড়ে বিমানটি। অজিত পাওয়ার, পাইলট-সহ ৫ জনের মৃত্যু হয়। ভেঙে পড়ার সময়ে আগুন ধরে যায় তাতে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, ঘন কুয়াশার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে এক গুচ্ছ প্রশ্ন ওঠে। জানা যাচ্ছে, ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকেছিল এলাকা। দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম ছিল। এরপরও কেন এটিসি র তরফে ছাড়পত্র দেওয়া হল? বিমান উড়ানের আগে সব রকম যান্ত্রিক পরীক্ষা কি করা হয়েছিল?