
নয়া দিল্লি: আজ বাংলা তো বটেই, গোটা দেশ এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে পারেন। কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেরই দায়ের করা মামলায় নিজে সওয়াল করতে পারেন। এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল জবাব করতে পারেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশন ও রাজ্যের CEO-র বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে একেবারে সম্মুখ সমরে তিনি। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন মমতা। তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখ্য, আদালতে তালিকাভুক্ত আইনজীবীরাই সওয়াল করতে পারেন, সেই তালিকায় নাম নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেক্ষেত্রে একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবেই সওয়াল করতে পারেন তিনি।
বুধবারও সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদন করেছেন, ২০২৫ এর ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন হোক। তাঁর বক্তব্য, তথ্যে অসঙ্গতির কারণে কারও নাম যাতে বাদ না যায়। নামের বানানের কারণে পাঠানো শুনানির নোটিস প্রত্যাহার করা হোক। তিনি ইতিমধ্যেই ‘Interlocutory application’ অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন, যে আবেদন মূলত কোনও মামলার মধ্যবর্তী সময়ে করা হয়ে থাকে। এখানে যে পার্টগুলো রয়েছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। মমতার বক্তব্য, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচন হয়েছে, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা সম্পূর্ণভাবে তৈরি রয়েছে। কেন তার ভিত্তিতে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন হবে না?
সাংবাদিক বৈঠকেও তিনি স্পষ্ট করেছেন, এসআইআর-এর বিরোধী তিনি নন, কিন্তু তাতে রাজ্য সরকারের যে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেই সংক্রান্ত যাবতীয় দায়বদ্ধতা পালনে তিনি প্রস্তুত। কিন্তু এসআইআর-এ এমন কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে, যেখানে সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের ভিতরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর একটি এক্সক্লুসিভ ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে।
এই প্রতিবেদন যখন প্রকাশিত হচ্ছে, তখন সুপ্রিম কোর্টে আইটেম নম্বর ওয়ানের শুনানি চলছে। সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির এজলাসে প্রথমে ১ নম্বর আইটেম থেকে পাঁচ নম্বর আইটেম পর্যন্ত শুনানি হবে। পাঁচ নম্বর আইটেমের পর আইটেম নম্বর ৩৫-এর শুনানি হবে। তারপরই ৩৬-থেকেই মামলার শুনানি হবে। উল্লেখ্য, এই ৩৬ থেকেই এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা ৩৭।