Bihar Tiger: ডাকা হয়েছিল শার্প শ্যুটার, গুলিতে চিরনিদ্রায় চম্পারণের মানুষখেকো
Bihar Tiger: শার্প শ্যুটারের হাতে প্রাণ গেল চম্পারণের মানুষখেকোর, ৯ জনের মৃত্যুর পর শেষ পর্যন্ত স্বস্তির বাতাস এলাকায়।

বিহার: ‘শুট অ্যাট সাইট’ অর্থাৎ দেখা মাত্রই গুলি করার নির্দেশ জারি হয়েছিল আগেভাগেই। আর এবার সেই নির্দেশ মেনে চম্পারণের মানুষখেকো বাঘকে চিরতরের জন্য ঘুম পাড়িয়ে দিলেন হায়দরাবাদের শার্প শ্যুটার শাপাথ আলি খান। ফলত বিহারের এই এলাকায় ফের ফিরে এল শান্তির বাতাস।
বিগত এক মাসের উপর বাঘের ভয়ে কার্যত ঘুম উড়ে গিয়েছিল বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলার বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট সংলগ্ন এলাকার মানুষদের। মাথায় একটাই চিন্তা এই বুঝি বাঘের হামলার মুখে পড়তে হবে। এই সময়কালের মধ্যে অন্তত ৯ জনকে হত্যা করেছে এই মানুষখেকো বাঘ। তার সর্বশেষ শিকার রামনগর ব্লকের ডুমরি গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় মাহাতো। জানা গিয়েছে, শুক্রবার জঙ্গল এলাকার কাছে একটি ঝোপে মলত্যাগের জন্য গিয়েছিলেন সঞ্জয়। আর ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। সেখানে তাকে আক্রমণ করে বাঘটি।
শুধু তাই নয়, এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে সিংগাহি মুস্তলি গ্রামের এক বাড়ি থেকে ১২ বছরের একটি কিশোরীকে টেনে নিয়ে যায় এই মানুষখেকো বাঘ। বিছানায় মশারি টাঙিয়ে ঘুমোচ্ছিল মেয়েটি। হাতের কাছে শিকারকে পেয়ে মশারি ছিঁড়ে কিশোরীর ঘাড় কামড়ে ধরে তুলে নিয়ে যায় সে। পরে মেয়েটির দেহ পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত, বাঘটিকে জীবিত অবস্থায় ধরার সমস্ত বিকল্পই প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু কাজ হয়নি। ফলত, মৃত্যুকেই শেষ পথে হিসাবে বেছে নেন বন দফতর। সহজ কথায়, জীবন্ত ধরার সমস্ত উপায় ব্যর্থ হওয়ায় বাঘটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন বন দফতরের কর্তারা। জানা গিয়েছে, বাঘটির বয়স প্রায় চার বছরের কাছাকাছি। সম্ভবত, অন্য কোনও বাঘের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে সে জখম হয়েছে। আর তারপর থেকে মানুষ শিকার করা শুরু করে। নুষখেকোর শিকার করতেই ডেকে আনা হয় হায়দরাবাদের শার্প শ্যুটার শাপাথ আলি খানকে। তৈরি হয় ৪০০ জন বনকর্মীর এক বিরাট দল। মানুষখেকো বাঘকে ধরতে লাঠি, মশাল, বন্দুক হাতে দিনরাত চলে পাহারার কাজ। অবশেষে শুক্রবার বনকর্মীদের হাতেই নিহত হয় চম্পারণের এই বাঘ।
