বিয়ার খেয়ে গার্লফ্রেন্ডের ডেডবডির সঙ্গে যৌনতা! ইউটিউব দেখে ডাকছিল আত্মাকে, তখনই হাজির…

Murder Case: পুলিশ সূত্রে খবর, এমবিএ পডুয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বেশিদিনের নয় ওই যুবকের। ওই দিন বাড়িতে এনে যুবতীকে যৌন সম্পর্কের জন্য জোরাজুরি শুরু করে। যুবতী রাজি না হলে, তাঁর উপরে শক্তি প্রয়োগ করে এবং জোর করেই শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপরে দড়ি দিয়ে যুবতীর হাত-পা বেঁধে দেয় এবং চোখও বেঁধে দেয়। বলে যে সে তাঁকে 'গিফট' দিতে চায়।     

বিয়ার খেয়ে গার্লফ্রেন্ডের ডেডবডির সঙ্গে যৌনতা! ইউটিউব দেখে ডাকছিল আত্মাকে, তখনই হাজির...
প্রতীকী চিত্র।Image Credit source: Meta AI

|

Feb 17, 2026 | 1:39 PM

ইন্দোর: ঘর ভর্তি ধূপ, জ্বলছে মোমবাতি। ঠিক মাঝখানে বসে এক যুবক। সে মন দিয়ে ডাকছে আত্মাকে। বারবার করে ক্ষমা চাইছে তাঁর কাছে। কার আত্মাকে ডাকছে? তাঁর প্রেমিকার আত্মাকে। এই প্রেমিকাকেই কয়েক ঘণ্টা আগে হত্যা করেছে সে!  নাহ, সিনেমার কোনও গল্প নয়। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এই ঘটনা আসলেই বাস্তবে ঘটেছে। ওই যুবক নিজের প্রেমিকাকে খুন করে এবং তারপরে ইউটিউব দেখে শেখে যে কীভাবে আত্মাকে ডাকতে হয়, যাতে সে তাঁর প্রেমিকার আত্মার কাছ থেকে ক্ষমা চাইতে পারে তাঁকে খুন করার জন্য।

ভয়ঙ্কর এই ঘটনাটি ঘটেছে মধ্য প্রদেশের ইন্দোরে। অভিযুক্ত যুবককে পুলিশকে গ্রেফতার করে এক এমবিএ পডুয়াকে খুনের অভিযোগে। পুলিশ জেরা শুরু করতেই ভয়ঙ্কর সব তথ্য উঠে আসতে শুরু করে। জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত যুবক তাঁর প্রেমিকাকে খুন করে।

ওই যুবকের বাড়ির কাছেই সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। সেখানেই ধরা পড়ে যে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ওই যুবক তাঁর প্রেমিকাকে নিয়ে বাড়িতে ঢোকে। আড়াই ঘণ্টা বাদে যুবক একাই বের হয়, সঙ্গে একটা মস্ত ব্যাগ। পুলিশ সূত্রে খবর, এমবিএ পডুয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বেশিদিনের নয় ওই যুবকের। ওই দিন বাড়িতে এনে যুবতীকে যৌন সম্পর্কের জন্য জোরাজুরি শুরু করে। যুবতী রাজি না হলে, তাঁর উপরে শক্তি প্রয়োগ করে এবং জোর করেই শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপরে দড়ি দিয়ে যুবতীর হাত-পা বেঁধে দেয় এবং চোখও বেঁধে দেয়। বলে যে সে তাঁকে ‘গিফট’ দিতে চায়।

যুবতী ফের বাঁধা দিলে, তাঁর চিৎকার আটকাতে মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। বুকের উপরে বসে পড়ে, তাঁর গলা টিপে ধরে। মৃত্যু হয় যুবতীর। অভিযোগ, এরপরও থামেনি যুবক। ছুরি নিয়ে এসে বুকে একের পর এক কোপ মারতে থাকে যুবক, যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর ছুরি ভেঙে না যায়।

খুনের পরও তাঁর নৃশংসতা থামেনি। খুন করার পর সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিয়ার কিনে আনে, মৃতদেহের পাশে বসেই মদ্যপান করে। পুলিশ জানিয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় যুবক ওই যুবতীর মৃতদেহের সঙ্গেও যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপরে পোশাক বদল করে চলে যায়। ঘরের ভিতরে নগ্ন অবস্থায় পড়ে থাকে যুবতীর দেহ।

এদিকে, ওই যুবতী বাড়িতে বলে গিয়েছিল যে আধার কার্ড সংশোধনের জন্য যাচ্ছে। সেই মতো তাঁর বাবা তাঁকে জেলাশাসকের অফিসের সামনে নামিয়ে আসে। পরে যুবতী তাঁর ছোট বোনকে ফোন করে জানায় যে এক বন্ধুর জন্মদিনে যাচ্ছে সে, রাত ১১টার মধ্যে বাড়ি ফিরে আসবে। রাত ১১টায় মেসেজ আসে, “পাপা-কে বলে দিও আজ বাড়ি ফিরব না”। এরপরই যুবতীর ফোন থেকে একের পর এক আপত্তিকর ভিডিয়ো পাঠানো শুরু হয়। ওই যুবকের সঙ্গে যৌনতার ১১টি ভিডিয়ো পাঠানো হয় যুবতীর ফোনে থাকা সমস্ত কনট্যাক্ট, হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাস ও কলেজ গ্রুপে।   এরপরই ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়। মেয়ের এমন ভিডিয়ো দেখে এবং তারপর যোগাযোগ করতে না পেরে তারা পুলিশে খবর দেন।

তদন্তে জানা গিয়েছে, খুনের পর যুবক মুম্বই পালিয়ে যায়। পুলিশ তাঁকে পনভেল থেকে গ্রেফতার করে। ওই সময় যুবক ইউটিউব দেখে প্রেমিকার আত্মাকে ডাকার চেষ্টা করছিল, যাতে ক্ষমা চাইতে পারে। পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত জানিয়েছে, সে ওই যুবতীকে ভালবাসত। তাঁকে বিয়ে করতে চাইত, কিন্তু ওই যুবতী ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছিল। সম্প্রতি একটি ডেটিং অ্যাপে যুবতীকে খুঁজে পায়। এতেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় তাঁর এবং তারপরই এই ঘটনা। বচসার পর যুবক ওই যুবতীকে খুন করে।