
নয়া দিল্লি: খুব মেধাবী হলে তবেই ডাক্তার হওয়া যায়। এটাই চিরাচরিত ধারণা সকলের। তবে সেই ধারণা কি এবার ভাঙতে চলেছে? ৮০০-এ শূন্য় পার্সেন্টাইল, এমনকী নেগেটিভ পার্সেন্টাইল পেয়েও ডাক্তার হওয়া সম্ভব? এই প্রশ্নই উঠেছে নিট-পিজি (NEET-PG) বিজ্ঞপ্তিতে।
গোটা দেশজুড়ে কি মেডিক্যাল শিক্ষার মানের অবনতি? নিট পিজির রেজাল্ট বেরনোর ৫ মাস পরেও ১৮ হাজার আসন ফাঁকা রয়েছে। আসন পূর্ণ করতে সংরক্ষিত আসনে কাট অফ মাইনাস ৪০ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনও মেডিক্যাল পড়ুয়া মাইনাস ৪০ পেলেও মেডিক্যালে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ পাবেন।
২০২৫ সালের ১৯ অগস্ট নিট-পিজির রেজাল্ট প্রকাশিত হয়। ন্যাশনাল বোর্ড অব এগজামিনেশন ইন মেডিক্যাল সায়েন্সের তরফে সম্প্রতি নিট-পিজি ২০২৫-র কাট অফ নম্বর পর্যালোচনা করে সংশোধন করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের নির্দেশেই এই কাট অফ মার্কসে পরিবর্তন করা হয়েছে। ৯ জানুয়ারির নির্দেশিকায় তৃতীয় রাউন্ড কাউন্সেলিংয়ের জন্য ন্যূনতম মার্কস কমানো হয়।
এই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, জনজাতি (SC), উপজাতি (ST) ও ওবিসি (OBC) প্রার্থীরা যারা শূন্য শতাংশ বা মাইনাস ৪০ পার্সেন্টাইল পেয়েছেন, তারাও এখন এমডি (MD) এবং এমএস (MS) ভর্তির জন্য কাউন্সেলিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য হবেন।
সাধারণত, কাট-অফ কমানো বা ০ পার্সেন্টাইল নির্ধারণের মতো সিদ্ধান্ত তখনই নেওয়া হয় যখন আসন খালি থাকার সম্ভাবনা থাকে। একাধিক রাউন্ড কাউন্সেলিং করার পরেও, সমস্ত আসন পূরণ করা হয় না। কাট-অফ শূন্য শতাংশ হলেও, আসন নির্বাচনের লাইনটি র্যাঙ্ক অনুসারে নির্ধারিত হবে। এর অর্থ হল যে মাইনাস ৪০ পেয়েছে, সে লাইনের শেষে থাকবে। তারা কেবল তখনই আসনের জন্য যোগ্য হবে, যদি তাদের সামনের লোকেরা ভর্তি না হন বা নির্দিষ্ট আসন খালি থাকে।
ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে চিকিৎসক সংগঠনগুলি। তবে সিদ্ধান্ত বদল করলে আসন ফাঁকাই থেকে যাবে। প্রশ্ন উঠছে মেডিক্যাল শিক্ষার এত অবনতি কেন? যেখানে শূন্য নয়, মাইনাস পেয়েও হওয়া যাচ্ছে ডাক্তার।