
নয়া দিল্লি: বছর শেষে বাংলায় থাবা বসিয়েছিল নিপা ভাইরাস (Nipah Virus)। মারণ এই সংক্রামক রোগের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশেই। অবশেষে ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে নিপা সংক্রমণ নিয়ে রিপোর্ট দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়, ভারতে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে এখনও কম। ভ্রমণে বা বাণিজ্যে কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন এখনও নেই বলেই জানিয়েছে হু।
এ দিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে আজ বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, “আগেও নিপা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে নিজের ক্ষমতা দেখিয়েছিল ভারত। এবারও রাজ্য ও জাতীয় স্তরে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় পদক্ষেপ অনুসরণ করছে। এখনও পর্যন্ত মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কোনও প্রমাণ নেই।”
তবে নিপা ভাইরাস আর যে ছড়াবে না, এমন নিশ্চয়তা দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ভারতে নিপা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরই হংকং, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, মালয়শিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, নেপালে করোনার মতো হেলথ স্ক্রিনিং শুরু করে দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত দুইজন নিপা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। দুইজনই নার্স। একজন পুরুষ এবং একজন নারী। দুইজনেই বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ডিসেম্বরের শেষে আক্রান্তের খোঁজ মেলে, জানুয়ারির শুরু থেকে তারা আইসোলেশনে রয়েছেন। পুণের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজি থেকে গত ১৩ জনুয়ারি রিপোর্ট আসে। ২১ জানুয়ারির রিপোর্ট অনুযায়ী, আক্রান্ত পুরুষ নার্স ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন, মহিলা রোগীর শারীরিক অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক।
অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবারই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত দুইজনের সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন, তাদের সকলেরই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
বাদুড় থেকে ছড়ায় এই মারণ ভাইরাস। বাদুড় থেকে কুকুর, ঘোড়া, শূকরের পাশাপাশি মানুষের দেহেও ছড়িয়ে পড়েছে। সরাসরি সংস্পর্শে আসলে বা বাদুড়ের লালারস থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। সেই কারণে ফল, খেজুর ও খেজুর রস খেতে বারণ করা হয়েছে। নিপা আক্রান্ত হলে জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা যায়। মস্তিষ্কে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে, তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
২০১৮ সাল থেকেই একাধিকবার নিপা ভাইরাসের হদিস মিলেছে কেরলে। পশ্চিমবঙ্গে এই নিয়ে তৃতীয়বার নিপা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। এর আগে ২০০১ সালে ও ২০০৭ সালেও নিপা সংক্রমণে আক্রান্তের খোঁজ মিলেছিল বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়। প্রতি বছরই বাংলাদেশে নিপা আক্রান্তের খোঁজ মেলে।