
নয়া দিল্লি: মোবাইল কিনতে গেলে এখন অনেক ব্রান্ডের অপশন, কিন্তু সবকটিই বিদেশি কোম্পানি। তা সে স্যামসাং-ই হোক বা ওপো-ভিভো- সবই বিদেশি চিন বা দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি। তবে এই একচেটিয়া আধিপত্য আর বেশিদিন নয়। এবার বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারত। নিজস্ব মোবাইল ফোন ব্রান্ড লঞ্চ করতে চলেছে ভারত। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজেই এ কথা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এই কথা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি জানান যে আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই ভারতের নিজস্ব মোবাইল ব্রান্ড আনতে চলেছে।
বিদেশি প্রযুক্তির উপরে নির্ভরশীলতা কমিয়ে, আত্মনির্ভরতার পথে হাঁটছে ভারত। তৈরি করা হচ্ছে ইলেকট্রনিক্স সাপ্লাই নেটওয়ার্ক। উচ্চমানের নতুন নতুন ডিভাইসের উৎপাদনেও জোর দেওয়া হচ্ছে। এবার স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও বিদেশি নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজের ব্রান্ড তৈরি করার পথে হাঁটছে ভারত।
ভারত ইতিমধ্যেই ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও তা যুক্ত করার (Assemble) কাজে শীর্ষস্থানে রয়েছে। যেখানে ২০১৪ সালে ভারতে মাত্র দুটি মোবাইল ফোন ইউনিট ছিল, তা এই কয়েক বছরেই বেড়ে ৩০০ প্রোডাকশন ইউনিট তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বিক্রি হওয়া ৯৯ শতাংশ মোবাইলই দেশে তৈরি হচ্ছে। ২০১৪-১৫ সালে এই হার ছিল ২৬ শতাংশ।
ইন্ডাস্ট্রি অ্যানালিস্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালেই ভারতের ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফাকচারিং সেক্টর ৩০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। বিগত কয়েক বছরে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইল উৎপাদন সেক্টর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশেও চাহিদা বাড়ছে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ডিভাইসের।
দাভোসের মঞ্চেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ভারতের ইলেকট্রনিক্স ইকোসিস্টেমে বর্তমানে একাধিক মোবাইল কম্পোনেন্ট সাপ্লায়ার রয়েছে। এরা মিলিতভাবে কাজ করলে, শুধু পণ্য অ্যাসেম্বল করা বা জোড়া লাগানো নয়, তার থেকেও বেশি কাজ করা সম্ভব। ডিজাইন থেকে উৎপাদন-সম্পূর্ণ মোবাইল ব্রান্ড তৈরি করার প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষ। সেমিকন্ডাক্টর ও ম্যানুফ্যাকচারিং প্রোডাকশনে আর্থিক সহায়তা পেলে স্থানীয় বা দেশীয় কোম্পানিগুলিও অত্যাধুনিক স্মার্টফোন বাজারে আনতে পারবে।
ভারতীয় ব্রান্ডের মোবাইল বিক্রি শুরু হলে, এতে ক্রেতারাও উপকৃত হবে। বিদেশি মোবাইল ব্রান্ডের উপরে নির্ভরশীলতা কমবে, গ্রাহক বা ক্রেতাদের কাছে মোবাইলের অপশন থাকবে। পাশাপাশি দেশীয় ব্রান্ড তৈরি হলে ডিজাইন, রিসার্চ ও উৎপাদন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।