
নয়া দিল্লি: ইরান-আমেরিকার সংঘাতের জেরে চরমে এলপিজি সঙ্কট (LPG Crisis)। এই সঙ্কট কাটাতে একাধিক পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই করেছে সরকার। এবার আরও এক পদক্ষেপ। সিলিন্ডারের ঘাটতি কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার কমার্শিয়াল এলপিজি অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বরাদ্দ করল রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলির জন্য। এই নিয়ে কমার্শিয়াল এলপিজির বরাদ্দ বেড়ে ৫০ শতাংশ হল।
বিগত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা মধ্য প্রাচ্যের সংঘাতের জেরেই তেল-শক্তি সরবরাহে টান পড়েছে। ভারতও এই সঙ্কট থেকে রক্ষা পায়নি। এলপিজি সঙ্কট কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ময়দানে নামে সরকার। সাময়িকভাবে কমার্শিয়াল প্রতিষ্ঠান যেমন হোটেল-রেস্তোরাঁগুলিতে এলপিজির সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থের বাড়িতে গ্যাস সরবরাহে বেশি জোর দেওয়া হয়।
পরে এলপিজি সরবরাহ একটু স্বাভাবিক হতে কেন্দ্রীয় সরকার অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বরাদ্দ করে। শনিবার কেন্দ্রীয় সরকার আরও ২০ শতাংশ বরাদ্দের, যাতে রেস্তোরাঁ, হোটেল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যান্টিন, ফুড প্রসেসিং ইউনিট, কমিউনিটি কিচেনে খাবার রান্না করতে কোনও সমস্যা না হয়।
এবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে যে কমার্শিয়াল এলপিজির বরাদ্দ আরও ২০ শতাংশ বাড়ানো হল। কমার্শিয়াল প্রতিষ্ঠান যারা অয়েল কোম্পানিগুলির সঙ্গে রেজিস্টার্ড এবং পাইপে ন্য়াচরাল গ্য়াস কানেকশনের জন্য আবেদন করেছে, তাদের এই অতিরিক্ত বরাদ্দ থেকে এলপিজি সরবরাহ করা হবে।
কেন্দ্রের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গৃহস্থের বাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। ডিস্ট্রিবিউশনে কোনও ঘাটতি নেই। ডেলিভারি পরিষেবাও স্বাভাবিক রয়েছে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে যে গ্রাহকদের প্যানিক বুকিংও কমে গিয়েছে অনেকটা। নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে যে তারা যেন অযথা দোকানে ভিড় না করেন এবং হোম ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করেন।
সরবরাহের চাপ কমাতে সরকার পাইপড ন্যাচরাল গ্য়াস বা পিএনজি-র উপরে নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে। রিফাইনারিগুলিও পেট্রোল-ডিজেলের পর্যাপ্ত জোগান বজায় রাখতে সর্বোচ্চ মাত্রায় ক্রুড তেল পরিশুদ্ধ করছে। রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে যাতে কেউ ব্ল্যাক মার্কেট না করে।