Indian Air Force: ভারত ভেনেজুয়েলা হবে না, দৃঢ় সংকল্প বায়ুসেনা প্রধানের

Amarpreet Singh on Indian Air Force Strength: বায়ুসেনাই কোনও দেশের সেনার আসল শক্তি, অপারেশন সিঁদুর-এর প্রসঙ্গ টেনে আজ সেকথা ফের একবার মনে করালেন দেশের বায়ুসেনা প্রধান। শক্তি না বাড়ালে যে কেউ দেশে ঢুকে আসবে, সতর্ক করলেন এয়ার চিফ মার্শাল

Indian Air Force: ভারত ভেনেজুয়েলা হবে না,  দৃঢ় সংকল্প বায়ুসেনা প্রধানের

| Edited By: Purvi Ghosh

Jan 21, 2026 | 4:14 PM

বিশ্ব জুড়ে অশান্তির বাড়বাড়ন্ত। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলে যাচ্ছে প্রত্যেকদিন। এই পরিস্থিতিতে কোনও দেশের শক্তি নির্ভর করবে সেই দেশের সেনার যুদ্ধ করার ক্ষমতার উপর। বুধবার একথা মনে করিয়ে দিলেন দেশের বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং। ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে বায়ুসেনা প্রধান বলেন, ‘আজ বিশ্বের পরিস্থিতি দেখে আমরা বুঝতে পারছি, কোনও দেশের সেনার শক্তি-ই সে দেশের আসল শক্তি। কোনও দেশ শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে মজবুত হলেই সে দেশ যে নিরাপদ বা সুরক্ষিত, এ কথা আজ বলা যাবে না।’

এক্ষেত্রে ভারত ও চিনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন বায়ুসেনা প্রধান। এয়ার চিফ মার্শাল বলেন, ‘ভারত ও চিন এই দুই মিলে বিশ্বের মোট জিডিপি-র প্রায় ৬০% নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু একমাত্র অর্থনৈতিক মাপকাঠিতেই এই দুই দেশ সুরক্ষিত, একথা বলা যাবে না।’ তাঁর স্পষ্ট কথা, ভারত ও চিনের সেনা শক্তিশালী বলেই আজ দুনিয়ার অন্য কোনও শক্তি তাদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পায় না। অমরপ্রীত সিং বলেন, ‘আজ দেশকে নিরাপদ রাখতে দরকার শক্তিশালী মিলিটারি পাওয়ার।’ সেনার সক্ষমতা না থাকলে যে কেউ সেই দেশে ঢুকে এসে দেশের দখল নিতে পারে, আজ ২২তম সুব্রত মুখোপাধ্যায় সেমিনারে ভাষণ দিতে গিয়ে একথাই বলেন দেশের বায়ুসেনা প্রধান। এই প্রসঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলা ও ইরাকের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। বলেন, ‘সেনার যথাযথ শক্তি না থাকলে কী হতে পারে, ইরাক ও ভেনেজুয়েলা তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ।’ বস্তুত, হাতেগোনা স্পেশ্যাল ফোর্স নিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ঢুকে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস থেকে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনে আমেরিকা।

সেই প্রসঙ্গ টেনে, সেনার শক্তিবৃদ্ধি শুধু সেই দেশকে নিরাপদ রাখতেই নয়, সে দেশের অর্থনীতি, পরিকাঠামো এমনকী কূটনৈতিক অবস্থানের জন্যও শক্তিশালী জমি তৈরি করে দেয় বলে আজ মন্তব্য করেন বায়ুসেনা প্রধান। তাঁর মতে আবার, কোনও দেশের সেনা শুধু শক্তিশালী হলেই চলবে না, সেই সেনাকে সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য সদর্থক মানসিকতাও থাকতে হবে। সেনার শক্তি ও সেই শক্তিকে প্রয়োজনে ব্যবহার করার মানসিকতা না থাকলে বাকি দুনিয়া সেই দেশকে দুর্বল বলে ভাবতে পারে বলেও আজ অনুষ্ঠান থেকে মন্তব্য করেন তিনি। কবীরের দোহা উদ্ধৃত করে এয়ার চিফ মার্শাল বলেন, ‘সেনাকে শক্তিশালী হতে হবে। তাদের সামর্থ্যকে ব্যবহারের মানসিকতা থাকতে হবে। তবেই সেই দেশকে দ্বিতীয় কেউ এসে দখল করার সাহস পাবে না।’ ভারতীয় অর্থনীতির প্রশংসা করে সেনার চূড়ান্ত শক্তিবৃদ্ধির পক্ষে আজ আগাগোড়া সওয়াল করে গেলেন এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং। দেশের প্রথম বায়ুসেনা প্রধান চিফ এয়ার মার্শাল সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান মনে করিয়ে দেন, সুব্রত মুখোপাধ্যায় যে সময় বাহিনীকে গড়ে তুলেছিলেন, তখন পরিস্থিতি সবদিক থেকে প্রতিকূল ছিল। না ছিল অর্থ, না ছিল পরিকাঠামো। ছিল শুধুমাত্র দূরদৃষ্টি। এই প্রসঙ্গে বর্তমান এয়ার চিফ মার্শাল বলেন, ‘আজ ভারতীয় বায়ুসেনা অনেকটা পথ এগিয়েছে। সেনার জন্য বরাদ্দ বেড়েছে। আমার কাজ পূর্বসূরীদের চেয়ে সহজ হয়েছে।’

আজ বায়ু সেনা প্রধান এও মনে করিয়ে দিয়েছেন, যে কোনও দেশের সেনার শক্তি সে দেশের বায়ুসেনার সক্ষমতার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। অপারেশন সিঁদুর-এর প্রসঙ্গে টেনে এনে এয়ার চিফ মার্শাল বলেন, ‘কাউকে শায়েস্তা করতে হলে (যেমন পাকিস্তান) বা কোনও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দেশের নাগরিকদের উদ্ধার (সুদান) করে আনতে বায়ুসেনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’ ২০২৫ ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও আজ উল্লেখ করেন তিনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভারত যেভাবে পাকিস্তানী জঙ্গিদের কোমর ভেঙে দিয়েছিল, তার জন্য বায়ুসেনার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। তবে শুধু সেই আত্মতুষ্টিতেই থেমে থাকলেই যে চলবে না, ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত থাকতে বায়ুসেনাকে নির্দেশ দেন আজ। এপ্রসঙ্গে সেনার জন্য দরকারি আধুনিক সরঞ্জাম পেতে মাঝেমধ্যে যে খানিকটা দেরি হয়, সেই নিয়েও খানিক উষ্মাও আজ প্রকাশ করে ফেলেন বায়ু সেনাপ্রধান। পাকিস্তানের মতো পড়শির দিক থেকে যে কোনও আক্রমণ ধেয়ে আসতে পারে বলেও আজ সতর্ক করে দেন এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং।