Principal Murder Case: প্রিন্সিপ্যালকে ২৭ বার কোপাল কে? কেবল একটাই ‘শব্দ’, আততায়ীকে ধরে স্তম্ভিত দুঁদে কর্তারাও
Telangana school principal murder: এরপর স্কুল ও হস্টেলের ছাত্রদের রেজিস্ট্রার খাতা চেক করা হয়। দেখা যায়, স্কুলে গত ১০ দিন ধরে বেশ কয়েকজন ছাত্র অনুপস্থিত রয়েছে। তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার মধ্যে ২ জনের প্রতি সন্দেহ গাঢ় হয়। কারণ শেষ এক সপ্তাহে তাঁরা প্রচুর টাকা উড়িয়েছে। পার্টি করেছে। কিন্তু এত টাকা তাদের কাছে আসবে কীভাবে?

হায়দরাবাদ: একটাই শব্দবন্ধ ‘বাবু’। যখন হাজারও চেষ্টায় কোনও ‘ক্লু’ই আসছিল না তদন্তকারীদের হাতে, তখন তাঁদের কানে আসে একটা শব্দ ‘বাবু’। আর এই সূত্র ধরেই তেলঙ্গানার স্কুলের প্রিন্সিপ্যালের খুনের কিনারা করল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে স্কুলেরই দুই ছাত্রকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রিন্সিপ্যালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ১.৫ লক্ষ টাকা, যার মধ্যে কয়েকটি নোটে রক্ত লেগেছিল। খুনে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছে?
গত ১২ অগস্ট তেলঙ্গানার কোন্ডামাল্লেপল্লিক নাগার্জুনা পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল কল্লু, রূপা রেড্ডির রক্তমাখা দেহ উদ্ধার হয় তাঁর বাড়ি থেকে। সেই সন্ধ্যায় তাঁর বাড়ি হায়দরাবাদে কাজের সূত্রে ছিলেন। প্রতিবেশীরাই তাঁকে ফোন করেছিলেন। রূপাকে একাধিকবার ফোন করেও পাচ্ছিলেন না প্রতিবেশীরা। তাঁর বাড়িও অন্ধকার ছিল। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ফোন পেয়েই প্রথমে স্ত্রীকে ফোন করেন রূপার স্বামী। তিনিও ফোনে পান না। থানায় ফোন করেন। পুলিশ গিয়ে বাড়ি থেকে রক্তমাখা ক্ষতবিক্ষত রূপার দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর শরীরে ছুরির মতো ধারাল কোনও অস্ত্র দিয়ে ২৭ বার কোপানো হয়েছে।
এরপর শুরু হয় তদন্ত। বাড়ি ও তার চারপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা পাঁচ বার খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। শেষবারে হাতে আসে ক্লু। সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত দেখা যায়, রূপা ফোনে কারোর সঙ্গে কথা বলছেন। ফোন খতিয়ে দেখে কল রেকর্ডিং বার করা হয়। জানা যায়, ফোনে রূপা তাঁর কাকিমার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এবার ফের সিসিটিভি ক্যামেরা দেখেন তদন্তকারীরা। ফোনে কথার বলার মাঝেই রূপা একবার ‘বাবু’ বলেছিলেন। আর তারপরই সব বন্ধ।
তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক শরৎচন্দ্র পাওয়ার বলেন, “ফোনে কথা বলার সময়ে শেষ বাবু শব্দটাই রেকর্ড হয়েছিল। এটাই আমাদের ক্লু দিয়েছিল। আমাদের সন্দেহ হতে থাকে, ম্যাডাম কাকে ‘বাবু’ বলে ডাকতে পারে? তদন্তের মুখই ঘুরিয়ে দেয়। সন্দেহের তালিকায় চলে আসে ছাত্ররা।”
এরপর স্কুল ও হস্টেলের ছাত্রদের রেজিস্ট্রার খাতা চেক করা হয়। দেখা যায়, স্কুলে গত ১০ দিন ধরে বেশ কয়েকজন ছাত্র অনুপস্থিত রয়েছে। তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার মধ্যে ২ জনের প্রতি সন্দেহ গাঢ় হয়। কারণ শেষ এক সপ্তাহে তাঁরা প্রচুর টাকা উড়িয়েছে। পার্টি করেছে। কিন্তু এত টাকা তাদের কাছে আসবে কীভাবে?
বুধবার তাদের ডেকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জেরার মুখে ভেঙে পড়ে দুই ছাত্র। তারা স্বীকার করে ‘প্রিন্সিপ্যাল ম্যাম’ কে তারাই খুন করেছে। তাদের কাছ থেকে খুনে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করে পুলিশ।
কিন্তু কেন খুন?
জেরায় ছাত্ররা জানিয়েছে, কিছুদিন আগে তাদের ব্যাগ থেকে মোবাইল ও টাকা উদ্ধার হয়েছিল। তাতে প্রিন্সিপ্যাল ম্যাম প্রচণ্ড বকাবকি করেন। অভিভাবকদের ডেকে পাঠান ও ছাত্রদের অন্য স্কুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তাতেই রাগ হয় ওই দুই ছাত্রের। প্রতিশোধ নিতে খুন।
পাঁচ দিন ধরে খুনের পরিকল্পনা করে দুজন। গ্লাভস কেনে, ছুরি কেনে। এরপর সুযোগ বুঝে বাড়িতে হানা! খুনের পর বাড়ি থেকে আড়াই লক্ষ টাকাও চুরি করে পালায় তারা। তার মধ্যে থেকে রক্তমাখা ১.৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত তদন্তকারীরা।
