
নয়াদিল্লি : লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করলেন বিরোধীরা। স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আগেই অনাস্থা এনেছিলেন বিরোধীরা। সোমবারই লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার দাবিতে গতকাল দিনভর বিক্ষোভ দেখান বিরোধীরা। সেই ইস্যুতেই একাধিকবার লোকসভা মুলতুবি হয়ে যায়। অবশেষে আজ স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছেন বিরোধীরা। এই ইস্যুতে শাসক-বিরোধী তরজা শুরু হয়েছে লোকসভায়। প্রায় ১০ ঘণ্টা এই ইস্যুতে বিতর্ক চলবে সংসদে। ইতিমধ্যেই শাসক-বিরোধী তরজায় উত্তপ্ত লোকসভা।
বিরোধীরা অনাস্থা আনার পর থেকেই স্পিকারের চেয়ারে বসছেন না ওম বিড়লা। তাঁর অনুপস্থিতিতে সভার কাজ চালাচ্ছেন প্রবীণ বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল। এদিন বিতর্কের শুরুতেই কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, ১১ বছর পর লোকসভায় ডেপুটি স্পিকার নেই। সাংসদ কেসি বেণুগোপাল বলেন,”সরকার গত কয়েক বছর ধরে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ করেনি। যা সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করেছে।” বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বিজেপি।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বিজেপি নেতা রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেন, “বিরোধী দলের উত্থাপিত অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন।” কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন,”ওম বিড়লার সঙ্গে আমাদের প্রত্যেক সদস্যের সম্পর্ক খুব ভাল। কিন্তু আমরা দুঃখিত যে বাধ্য হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে হচ্ছে।” বিতর্ক চলাকালীন গৌরব গগৈ বলেন, প্রস্তাবটি ওম বিড়লার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং সংসদের মর্যাদা রক্ষার জন্যই পেশ করা হয়েছে। এরপরই শাসক-বিরোধী তরজায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে লোকসভা। দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় লোকসভা।
প্রসঙ্গত, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে লোকসভায় স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস দেয় কংগ্রেস। সেই প্রস্তাবে সই করেন ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলি। যদিও, তৃণমূল প্রথমে সেই প্রস্তাবে সই করেনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রস্তাবে সই করতে আপত্তি নেই তৃণমূলের। তবে, ইন্ডিয়া জোটে শরিক দলগুলি একটা যৌথ বিবৃতি দিলে তবেই প্রস্তাবে সই করবে তৃণমূল। পরে অবশ্য তৃণমূলের তরফে প্রস্তাবে সই করা হয়। মোট ১১৮ সদস্য সই করেছেন প্রস্তাবে। অবশ্য এর আগেও লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেও সফল হননি বিরোধীরা।