
নয়া দিল্লি: আজও পন্ড হল সংসদ অধিবেশন (Parliament Proceeding)। লখিমপুর কাণ্ড (Lakhimpur Kheri Issue) নিয়ে কংগ্রেস (Congress) সহ বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভের জেরে সোমবার অবধি রাজ্যসভা(Rajya Sabha)-র অধিবেশন স্থগিত করে দেওয়া হল। অন্যদিকে, লোকসভা(Lok Sabha)-তেও বিরোধীদের হই-হট্টগোলের জেরে দুপুর ২টো অবধি অধিবেশন স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।
লখিমপুর খেরিতে কৃষক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আগেই সরব হওয়ার পরিকল্পনা ছিল বিরোধীদের। চলতি সপ্তাহেই উত্তর প্রদেশ পুলিশের সিট কমিটি লখিমপুর কাণ্ডের রিপোর্ট জমা দেয় সুপ্রিম কোর্টে। সেই রিপোর্টে বলা হয়, “দুর্ঘটনা নয়, পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই কৃষকদের গাড়ি চাপা দেওয়া হয়েছে।”
সিট(SIT)-র এই রিপোর্ট সামনে আসার পরই সংসদে সরব হয়েছে বিরোধীরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় কুমার মিশ্রের ইস্তফার দাবিতে সংসদের দুই কক্ষেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিরোধীরা। গত দুইদিনও বিরোধীদের হই-হট্টগোলের কারণেই সংসদ অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে হয়।
এদিনও বিরোধীরা লখিমপুর কাণ্ড নিয়েই সরব হবে, এই আশঙ্কা আগেই ছিল। কংগ্রেস সাংসদ তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে লখিমপুর কাণ্ড নিয়ে আলোচনার দাবিতে মুলতুবি প্রস্তাব দেন। আজকের অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধীরা রাজ্যসভা ও লোকসভায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদরা মহিলাদের বিয়ের বয়স বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য রাখতে শুরু করলেও বিরোধীদের চিৎকার ও বিক্ষোভে বাধ্য হয়ে অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে হয়। সোমবার অবধি রাজ্যসভার অধিবেশন স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, “আজ আমি বিরোধী দলনেতা ও কয়েকজন সাংসদদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আপনাদের সকলের কাছেই অনুরোধ করছি যে সংসদের কার্যাবলী সুষ্ঠভাবে পরিচালিত করার জন্য কোনও একটি সহমতে আসুন। আপনাদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য সোমবার অবধি রাজ্যসভা মুলতুবি করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, লোকসভাতেও কংগ্রেস সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদরা হাতে পোস্টার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধীদের সতর্ক করলেও, বিক্ষোভ না থামায় তিনি জানান, লোকসভায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হলে তাঁর দায়ভার বিক্ষোভকারী সংশ্লিষ্ট সাংসদদেরই নিতে হবে। দুপুর দুটো অবধি লোকসভা মুলতুবি করে দেওয়া হয়েছে।
গতকালও লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, “তদন্তকারী সংস্থার তরফেই জানানো হয়েছে গোটা ঘটনাই (লখিমপুর কাণ্ড) একটি চক্রান্ত। সকলেই জানেন, কার ছেলে এই ঘটনায় অভিযুক্ত। আমরা চাই ওই মন্ত্রী ইস্তফা দিক এবং এই বিষয়ে সংসদে আলোচনা করা হোক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তা চান না। সেই কারণেই এত অজুহাত দেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে, আজই দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বিজেপি তিন নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর, ভি মুরলীধরন ও রাজ্য়বর্ধন সিং রাঠোর সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভের জেরে প্রতিদিন যেভাবে অধিবেশনের কাজ প্রভাবিত হচ্ছে, তা নিয়েই সরব হবে বিজেপি।