
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সঙ্কট এবার পৌঁছে গিয়েছে চরমে। আগে পাকিস্তান যে বিষয়কে অন্যদের কল্পনা বলে উড়িয়ে দিতে, এখন সেই অর্থনৈতিক সঙ্কটই তাদের গলার ফাঁস হয়ে বসেছে। সময়ের সঙ্গে বাড়ছে ঋণের পরিমাণ। হু হু করে কমছে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারও।
এই সব সঙ্কটের মুখে পড়ে একাধিক ঋণ মেটাতে পারছিল না পাকিস্তান। আর এবার সেই সমস্যা মেটাতে এমন এক পথে হাঁটতে চলেছে ইসলামাবাদ, যাকে বলা যায় জাদুবিদ্যা। নগদ টাকায় ঋণ শোধের বদলে যুদ্ধবিমান দিয়ে ও সেনা-নিয়ন্ত্রিত সংস্থার শেয়ার অন্য দেশের হাতে তুলে দিয়ে সেই ঋণ শোধের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান।
সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট বলছে, সৌদি আরবের কাছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ রয়েছে পাকিস্তানের। আর সেই ঋণ শোধে পাকিস্তান সেই দেশকে প্রস্তাব দিয়েছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান দেওয়ার। ফলে, এই যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে সেই ঋণ মেটানর চেষ্টায় রয়েছে ইসলামাবাদ। একই ভাবে ভারতের ‘বন্ধু’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ রয়েছে পাকিস্তানের। আর এই ঋণ মেটাতে সে দেশের সেনা-পরিচালিত ফৌজি ফাউন্ডেশনের শেয়ার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাতে তুলে দেবে ইসলামাবাদ। অর্থাৎ টাকা নয়, অস্ত্র দিয়ে ও শেয়ার দিয়ে দেনা মেটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপগুলো সে দেশের আর্থিক দুরাবস্থার গভীরতা স্পষ্ট করে। দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, রাজস্ব বৃদ্ধি ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বদলে ইসলামাবাদ দেশের সামরিক সম্পদকেই অর্থনৈতিক হাতিয়ার বানাচ্ছে। তারা তাদের কাছে থাকা জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানকে রফতানি করে দেনা থেকে মুক্তি পেতে ও বিভিন্ন দেশের কাছে ভূ-রাজনৈতিক সমর্থন কেনার চেষ্টা করছে।
তবে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপে কিছু প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। পাকিস্তানের এই অর্থনৈতিক কৌশল কতটা বাস্তব সম্মত নাকি এর পিছনে কাজ করছে কোনও মরিয়া পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যে কোনও ধরনের সামরিক রফতানিকে অর্থনীতিকে ঠিক করার দাওয়াই মনে করাও বিপজ্জনক। প্রায় ৪১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি আর প্রায় ৯২ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ নিয়ে একটি দেশ যদি যুদ্ধবিমান আর সেনা-সংস্থার শেয়ার দিয়ে দেনা শোধ করতে চায়, তবে সেই দেশে বিনিয়োগকারীর আস্থা, স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। এই ঋণের বদলে জেট বা শেয়ার দেওয়ায় পাকিস্তানের মূল অর্থনৈতিক সমস্যা কোনও দিনই সারবে না। কঠোর সংস্কার ছাড়া এই ধরনের সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান নেই।