PM Narendra Modi : দেশজুড়ে জ্বালানি‌র উৎকণ্ঠা, জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা? উদ্বেগ কতটা?

PM Narendra Modi : জানা গিয়েছে, মূলত দেশের জ্বালানি সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং দেশজুড়ে বণ্টন প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠুভাবে চালু থাকে, তা নিশ্চিত করার ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। বৈঠকে মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য যেকোনও বিঘ্ন মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

PM Narendra Modi : দেশজুড়ে জ্বালানি‌র উৎকণ্ঠা, জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা? উদ্বেগ কতটা?
নরেন্দ্র মোদীImage Credit source: Tv9 Bangla

Mar 22, 2026 | 6:35 PM

নয়া দিল্লি : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি চতুর্থ সপ্তাহে পড়েছে। যার একটা বড় প্রভাব পড়েছে ভারতে। গ্যাসের দাম বেড়েছে। হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায় দেশের অভ্যন্তরে তেল ও গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। যদিও তার মধ্যে ভারতের একাধিক তেলবাহী জাহাজ ইরানের ছাড়পত্র পেয়েছে। তারপরেও দেশের অভ্যন্তরে কতটা জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে? এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সঙ্কট পর্যালোচনায় বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার সন্ধে নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। বৈঠকের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মূলত পেট্রোলিয়াম, অপরিশোধিত তেল,প্রাকৃতিক গ্যাস,বিদ্যুৎ ও সার নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকটি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, মূলত দেশের জ্বালানি সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং দেশজুড়ে বণ্টন প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠুভাবে চালু থাকে, তা নিশ্চিত করার ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। বৈঠকে মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য যেকোনও বিঘ্ন মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার কী কী পদক্ষেপ করছে? এই বিষয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে পিআইবি। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে,

  • দেশজুড়ে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের ডেলিভারি স্বাভাবিক রয়েছে। আতঙ্কে বুকিংয়ের প্রবণতাও কমেছে।
  • সরকার জানিয়েছে, রাজ্যগুলিতে বাণিজ্যিক LPG-র সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলির জন্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • একইসঙ্গে, রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পিএনজি সংযোগ বাড়ানোর জন্য। যাতে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক, দুই ক্ষেত্রেই বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসার ঘটে।
  • গ্যাস মজুত করে রাখা বা কালোবাজারি রুখতে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
  • দেশের সব বড় বন্দরগুলিতে স্বাভাবিকভাবেই কাজকর্ম চলছে এবং কোথাও কোনও সমস্যা নেই বলে জানানো হয়েছে।
  • মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র। সেই সঙ্গে, ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। ১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী মোদি এই পরিস্থিতিকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে মোকাবিলার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, বাহরিন, কুয়েত, জর্ডন, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, ইজ়রায়েল এবং ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

Follow Us