
কলকাতা ও নয়া দিল্লি : প্রয়াত কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় (Sandhya Mukhopadhyay Death)। মঙ্গলবার কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। সঙ্গীত জগতের এক নক্ষত্র পতন হল মঙ্গলবার। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশের সঙ্গীত জগত। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও (PM Narendra Modi)। টুইটারে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমরা সকলে অত্যন্ত শোকাহত। আমাদের সাংস্কৃতিক জগৎ আরও অসহায় হল। তাঁর সুরেলা সঙ্গীত পরিবেশন আগামী প্রজন্মকে মুগ্ধ করবে। এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার ও গুণমুগ্ধ ভক্তদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাই।”
উল্লেখ্য, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন তিনি। বাড়িতেই পড়ে গিয়ে চোট নিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালের উড বার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। সেদিন ছিল ২৬ জানুয়ারি কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর কোভিড ধরা পড়ে। ফুসফুসের সংক্রমণ দেখা যায়। এরপর তাঁকে কলকাতারই এক নামি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। এতদিন সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। কিন্তু আর পারলেন না। চির বিদায় নিলেন সঙ্গীত কিংবদন্তী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেল থেকেই সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। রক্তচাপ কমতে থাকায় তাঁকে ভ্যাসোপ্রেসরে রাখা হয়েছিল। তলপেটে ব্যথা এবং অস্বস্তি অনুভব করছিলেন তিনি। আইসিইউয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পরেও শেষ পর্যন্ত সব ব্যর্থ করে দিয়ে চিরনিদ্রায় গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই দেশের পদ্ম সম্মান প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সময় গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কেও ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সম্মান তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই নিয়ে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে গোটা বাংলার শিল্পীসমাজকে একজোট হতে দেখা গিয়েছিল। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। শোকবার্তায় হাসিনা বলেন, “উপমহাদেশে গানের মুগ্ধতা ছড়ানোর পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
আরও পড়ুন : Sandhya Mukhopadhyay Death: ‘অপূরণীয় ক্ষতি, অগ্রজাকে হারালাম’, সন্ধ্যার প্রয়াণে শোকবিহ্বল মমতা