
নয়া দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বক্তব্য রাখবেন সংসদে। এমনটাই স্থির ছিল। প্রস্তুতিও ছিল সেরকমই। কিন্তু দিনের শেষে কার্যত নজিরবিহীন ঘটনা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুর হওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই স্থগিত হয়ে গেল লোকসভা। সংসদে বিরোধীদের বিক্ষোভে উত্তাল হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে এভাবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘটনা খুব বেশি ঘটেনি।
এদিন বিরোধী দলের সাংসদরা বিক্ষোভ দেখাতে শুর করেন ট্রেজারি বেঞ্চের কাছেই। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম হয়ে ওঠে সংসদ কক্ষ। বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি জানিয়েছেন, বিরোধী দলের কয়েকজন মহিলা সাংসদ এদিন ওয়েলে ঢুকে পড়েন ও সোজা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের কাছে চলে যান। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তাঁরা নিজেদের চেয়ারের দিকে ফিরে যাননি বলে অভিযোগ। মনোজ তিওয়ারি আরও জানিয়েছেন, কক্ষের পরিস্থিতি কার্যত হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রবেশই করতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলাও হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজেপি সাংসদ। তিনি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের কাছেই তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। বিরোধী সাংসদদের ব্যবহারে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এদিন ওয়েলের কাছে ব্যানার হাতে ঢুকতে দেখা যায় বিরোধী দলের সাংসদদের। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল ‘জো উচিৎ লাগে ও করো’। তৃণমূল কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সদস্যরাও তাতে যোগ দেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না।
দুই মহিলা সাংসদের সঙ্গে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের রীতিমতো বাকবিতণ্ডা চলে। সাংসদ জ্যোতিমানি ও বর্ষা গায়কোয়াডকে নিশিকান্তের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে লোকসভার অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়। স্পিকার অধিবেশন মুলতুবি করার কথা ঘোষণা করলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। এরপর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সহ অন্যান্য বিজেপি সাংসদরা বিরোধীদের শান্ত হতে অনুরোধ করতে থাকেন।
শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস সাংসদ দীপেন্দর হুডা সব সাংসদকে নিজের জায়গায় ফিরে যেতে বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাতিল হয়ে যাওয়ার পর কটাক্ষ করে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভয় পেয়েছেন, তাই সংসদে আসেননি। রেলমন্ত্রী বুলেট ট্রেনের মতো পালিয়ে গিয়েছেন বলেও কটাক্ষ করেছেন প্রিয়ঙ্কা।