
আহমেদাবাদ: জীবন বড়ই নির্মম। অভিযোগ উঠেছিল ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার। ৩০টা বছর কেটে গেল পুলিশ কনস্টেবলের নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে। আর যে দিন নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করলেন, ঠিক তার পরদিনই মৃত্য়ু হল ওই পুলিশ কনস্টেবলের। সিনেমার গল্প বলে মনে হলেও, এটাই বাস্তবে ঘটেছে। যেন ওই ব্যক্তি অপেক্ষা করছিলেন নিজের নির্দোষ প্রমাণের। দোষমুক্ত হতেই তিনি পৃথিবী ছাড়লেন।
গুজরাট পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি করতেন বাবুভাই প্রজাপতি। আহমেদাবাদে তাঁর পোস্টিং ছিল। ১৯৯৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে তিনি ২০ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। দুর্নীতি দমন আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৯৭ সালে সেশন কোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০০২ সালে চার্জ গঠন করা হয়। সাক্ষীদের শুনানি শুরু হয় ২০০৩ সালে। পরের বছর অর্থাৎ ২০০৪ সালে সেশন কোর্ট বাবুভাই প্রজাপতিকে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা করে।
বাবুভাই সেশন কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এরপরে ২২ বছর ধরে তাঁর আপিল আদালতে ঝুলে থাকে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি অবশেষে গুজরাট হাইকোর্ট এই মামলায় রায় দেয়। বাবুভাই প্রজাপতিকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করে আদালত। হাইকোর্ট জানায়, ওই মামলায় সাক্ষীদের বয়ানে বিস্তর ফারাক ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। গোটা মামলাটাই সন্দেহের বশে তৈরি করা হয়েছিল।
আদালতের এই রায় শুনে বৃদ্ধ বাবুভাই হাঁফ ছেড়ে বলেন, “আমার জীবনের কলঙ্ক মুছে গেল। এবার ভগবান যদি আমায় নিয়েও নেয়, তাহলে কোনও দুঃখ বা আক্ষেপ থাকবে না।”
এই কথা যে এত তাড়াতাড়ি সত্যি হয়ে যাবে, তা কেউ ভাবেনি। আদালত থেকে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। পরেরদিনই মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবার পরিজনরা জানিয়েছেন, প্রায় অর্ধেকটা জীবন জেলে কাটিয়ে, বিনা অপরাধে কলঙ্ক বয়ে বেড়াতে হয়েছিল। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর যদি কয়েকদিন প্রাণ খুলে বাঁচতে পারতেন, তাহলে ভাল হত।
তাঁর আইনজীবীও বলেন, “আগেরদিনই আমার অফিসে এসেছিলেন। খুব খুশি ছিলেন যে অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। আমি বলেছিলাম, আঙ্কেল আপনার উচিত সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করা, যা থেকে এতদিন বঞ্চিত হয়েছেন। পরেরদিন আমি ফোন করে জানতে পারলাম ওঁ হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছেন।”