AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Rahul Gandhi: ৫২ বছর বয়সেও বাড়ি নেই রাহুলের, কটাক্ষ বিজেপির

Rahul Gandhi: রায়পুরে কংগ্রেসের প্লেনারি অধিবেশন থেকে রাহুল বলেন ৫২ বছর বয়সেও নিজের বাড়ি নেই তাঁর। এই নিয়ে কটাক্ষ বিজেপির।

Rahul Gandhi: ৫২ বছর বয়সেও বাড়ি নেই রাহুলের, কটাক্ষ বিজেপির
ছবি সৌজন্যে: PTI
| Edited By: | Updated on: Feb 26, 2023 | 6:18 PM
Share

রায়পুর: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) দামি শার্ট নিয়ে অনেকবার নেটিজ়েনদের মধ্যে আলোচনা দেখা গিয়েছে। বিজেপি আবার তাকে সমালোচনার অস্ত্র বানিয়েছে। তবে যে কংগ্রেস নেতা দামি, ব্র্যান্ডেড শার্ট পরেন, তাঁর কোনও বাড়ি নেই। তিনি নিজে মুখে এ কথা বলেছেন কংগ্রেসের ৮৫ তম প্লেনারি অধিবেশনে। ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরে কংগ্রেসের প্লেনারি অধিবেশন চলছে। আজ ছিল তার তৃতীয় দিন। আর আজ বক্তব্য রাখেন রাহুল গান্ধী। এর আগে সনিয়া গান্ধী বক্তব্য রাখার সময় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার একটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এ দিন এই অধিবেশন থেকেই রাহুল বলেছেন, ৫২ বছর বয়স আমার। এখন আমার কাছে কোনও বাড়ি নেই। আর রাহুলের এই মন্তব্য ঘিরে ঠাট্টা শুরু করেছে বিজেপি।

নিজের জীবনে ১৯৯৭ সালের একটি স্মৃতি রবিবার অধিবেশন থেকে ভাগ করে নিয়েছেন রাহুল। সনিয়া পুত্র জানান যে তিনি মনে করতেন যে সরকারি বাসভাবনে তিনি ও তাঁর পরিবার বসবাস করতেন তা তাঁদের নিজস্ব। তবে ১৯৯৭ সালের নির্বাচনের ফলাফলের পর সেই ভুল ভাঙে তাঁর। একদিন হঠাৎ তাঁর মা জানান, এই বাড়ি ছেড়ে তাঁরা চলে যাবেন। রাহুল বলেন, “বাড়িতে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমি মায়ের কাছে গিয়েছিলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে আমরা বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আমি ভাবতাম এটা আমাদের বাড়ি। তখন আমার মা আমাকে বলেছিলেন যে এটি আমাদের বাড়ি নয়, এটি সরকারের বাড়ি।” আর এই বিষয়ে জানার পরই চিন্তিত হয়ে পড়েন তিনি এবং উদ্বিগ্ন হয়ে সনিয়াকে জিজ্ঞাসা করেন তাঁরা এরপর কোথায় যাবেন। জবাবে সনিয়া বলেছিলেন, “জানি না”।

এরপরই রাহুল গান্ধী জানান তার এই বয়সে এসেও নিজের কোনও বাড়ি নেই। তিনি বলেন, “আমার বয়স এখন ৫২। এবং এখনও আমার কোনও বাড়ি নেই। এলাহাবাদে আমাদের যে পারিবারিক বাড়ি রয়েছে তা আমাদের নয়। আমি ১২, তুগলক লেনে থাকি। কিন্তু এটা আমার বাড়ি নয়।” তিনি আরও বলেন, “তাই আমি যখন ভারত জোড়ো যাত্রা শুরু করেছিলাম, তখন আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে যাত্রায় যোগ দেওয়া সমস্ত লোকের প্রতি আমার দায়িত্ব কী। তখন আমার মাথায় একটা ভাবনা আসে। আমি আমার অফিসের লোকদের বলেছিলাম যে যাত্রার সময় যারা আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে তাঁদের যেন এখানে নিজের বাড়ির মতো অনুভূতি হয়। যাত্রা হবে আমাদের বাড়ি এবং এই বাড়ির দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে – ধনী, দরিদ্র, পশু – সবার জন্য।” তিনি নিজেই এই আইডিয়াকে ছোটো বলেছেন একদিকে। অন্যদিকে এই ভাবনার গভীরতার কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “যেদিন এই যাত্রা বাড়ির রূপ নিয়েছিল সেদিনই এই যাত্রা বদলে গিয়েছিল। রাজনীতি নিয়ে মানুষ আমার সঙ্গে কথা বলতে আসত না।” তিনি বলেন, যেদিন এই ছোট্ট বাড়ি কাশ্মীরে পৌঁছায় সেদিন তাঁর মনে হয় নিজের বাড়ি পৌঁছে গিয়েছেন।

এদিকে রাহুলের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিদ্রুপ করেছেন বিজেপির সম্পিত পাত্র। তিনি বলেন, “৫২ বছর পর রাহুল গান্ধী দায়িত্ব নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। তিনি দলের সভাপতির পদ ত্যাগ করেছেন এবং তারপর তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে ভাবতে শুরু করেছেন। আমি আপনাকে বলব, রাহুল গান্ধীজি, গান্ধী পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আপনার দায়িত্বও দায়িত্বহীন ক্ষমতা।” তিনি আরও বলেছেন, ‘আমাদের দুই প্রধানমন্ত্রী তাঁদের রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে বুঝতে পেরেছিলেন যা ৫২ বছর পর আপনি উপলব্ধি করেছেন। আপনি ভাবতেন, সব সরকারি বাড়িই আপনার। ইংরেজিতে, এটিকে অধিকারের অনুভূতি বলা হয়।”