Mohan Bhagwat: ‘বিশ্বের অনেক শক্তিই চায় ভারত পরাজিত হোক’, দেশবাসীকে সতর্ক থাকার বার্তা RSS প্রধানের
Mohan Bhagwat on Regime Change: RSS প্রধান বলেন, ভারতকে উন্নত রাষ্ট্র হয়ে ওঠার পথ থেকে সরিয়ে দিতে চায়, এমন শক্তি সম্পর্কে দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর কথায়, “এটা স্পষ্ট যে, বিশ্বের অনেক শক্তিই চায় ভারত পরাজিত হোক।” তিনি আরও বলেন, “পশ্চিম দিক থেকে একটা ঝড় ধেয়ে আসছে, যা সংস্কৃতি, ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাকে ঘৃণা করে। তারা সবকিছু ধ্বংস করতে চায়।”

নাগপুর: ভারতকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা সফল হবে না। মঙ্গলবার এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন করলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় না। সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে সমাজের ভিতর থেকেই। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে চলা প্রতিবাদের আবহে এই মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার নাগপুরে বিজয়া দশমী উৎসবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভারতই তাদের প্রধান লক্ষ্য, কারণ ভারত উন্নতি করছে। গত কয়েক দশকে নির্ণায়ক নীতির মাধ্যমে ভারত যেভাবে এগিয়ে গিয়েছে, তা ব্যাহত করা যে সম্ভব নয়, এই অশুভ শক্তিগুলি তা জানে। তাই তারা ভারত এবং সঙ্ঘকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে।” ভাগবত আরও সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা প্ররোচনা দিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করা হলে তা উত্তেজনা, নৈরাজ্য এবং জনজীবনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।
‘পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসছে ঝড়’-
RSS প্রধান বলেন, ভারতকে উন্নত রাষ্ট্র হয়ে ওঠার পথ থেকে সরিয়ে দিতে চায়, এমন শক্তি সম্পর্কে দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর কথায়, “এটা স্পষ্ট যে, বিশ্বের অনেক শক্তিই চায় ভারত পরাজিত হোক।” তিনি আরও বলেন, “পশ্চিম দিক থেকে একটা ঝড় ধেয়ে আসছে, যা সংস্কৃতি, ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাকে ঘৃণা করে। তারা সবকিছু ধ্বংস করতে চায়।”
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সাক্ষী হওয়া ফ্রান্স, বাংলাদেশ ও নেপালের উদাহরণও তুলে ধরেন ভাগবত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি আন্দোলনের জেরে কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন হয়। তার এক বছর আগে, ২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নেয় এবং শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অন্যদিকে, সম্প্রতি ফ্রান্সে স্কুল সংস্কার নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং জনপরিষেবার অবনতি নিয়ে অসন্তোষের জেরে আরও বড় আকার নেয়। সেই ঘটনায় এক হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়।
ভাগবত বলেন, ভারতে এমন এক শ্রেণির মানুষ রয়েছেন, যাঁরা এই শক্তিগুলির মনোভাবের প্রতিফলন ঘটান। তাঁর কথায়, “ভারতেও এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা তাদের মতাদর্শে বিশ্বাসী। তাঁদের বুদ্ধির অভাব রয়েছে এবং ক্ষমতার প্রতি প্রবল লালসা রয়েছে।” সমাজকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে RSS প্রধান বলেন, সমস্যার সমাধান সমাজের ভিতর থেকেই খুঁজে বের করতে হবে, আন্দোলনের মাধ্যমে নয়। SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে দিল্লিতে চলা আন্দোলন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ মন্তব্যের কয়েক দিন পরেই মোহন ভাগবত এই বক্তব্য রাখলেন।
পরিবেশ ও নৈতিকতার মধ্যে ভারসাম্যের বার্তা-
এদিন নাগপুরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে RSS প্রধান আরও বলেন, মানবসমাজের উপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে কীভাবে উন্নয়ন সম্ভব, ভারতকে তার পথ দেখাতে হবে এবং উন্নয়নের নতুন মাপকাঠি তৈরি করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। তবে সেই সঙ্গে পরিবেশ এবং নৈতিকতার বিষয়গুলিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। ধর্ম, ভাষা ও খাদ্যাভ্যাসের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের বৈচিত্র্য রক্ষা এবং তাকে সম্মান জানানোর উপরেও জোর দেন তিনি।
উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব বোঝাতে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার উদাহরণ দেন ভাগবত। একইসঙ্গে টেনে আনেন কলকাতার চোরবাগানে দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “কলকাতায় যা ঘটেছে (পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা), তা আমাদের নিজেদের ভুলের কারণে। কিন্তু নেপালে যা ঘটেছে, তা প্রাকৃতিক বিপর্যয়।” চোরবাগানে দুর্ঘটনা নিয়ে মোহন ভাগবতের মন্তব্য প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “উনি তো খোঁজখবর নিয়েই বলেছেন। ভুল তো কিছু হয়েছে।”
