
নয়া দিল্লি : ভারতের কোচি বন্দরে ইরানের রণতরী আশ্রয় দেওয়া নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, ভারতেরই আশ্রয় দেওয়া আরও এক ইরানি রণতরীর উপর হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেয় আমেরিকা। গোটা ঘটনায় এতদিন চুপ ছিল ভারত। তবে, এবার এই বিষয়ে মুখ খুলল কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ভারত যা কাজ করেছে ঠিক করেছে। মাণবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টা দেখেছে তারা। জয়শঙ্কর কি তাহলে ঘুরিয়ে আমেরিকাকে কোনও কড়া বার্তা দিতে চাইলেন?
শনিবার রাইসিনা ডায়লগ অনুষ্ঠানে যোগ দেন জয়শঙ্কর। সেখানে ইরানের রণতরী আইআরআইএস লাভানকে কোচি বন্দরে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ইরানের জাহাজে কোনও টেকনিক্যাল সমস্যা হয়েছিল। নয়াদিল্লি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই ওই রণতরীকে কোচি বিমানবন্দরের আশ্রয় দেওয়ার অনুমতি দেয়। সংবাদসংস্থা এএনআইকে জয়শঙ্কর বলেন,”আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছি। আইনি সমস্যাগুলি বাদ দিয়ে আমি মনে করি আমরা সঠিক কাজই করেছি।”
ঘটনা আরও বিস্তারিত বর্ণনা করে জয়শঙ্কর বলেন, “ইরানের তরফে ভারতের কাছে একটি বার্তা আসে। সেখানে বলা হয়, ভারতীয় সীমান্তের একেবারে কাছে একটি জাহাজ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। ভারতীয় বন্দরে তা প্রবেশের অনুমতি চায় ইরান।” এরপর ভারত ১ মার্চ অনুমতি দেয় এবং জাহাজটি কয়েকদিন পরে কোচিতে পৌঁছয়। এই বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেন,”১ মার্চ,আমরা বলেছিলাম আপনারা আসতে পারেন। এরপর তাদের কয়েক দিন সময় লেগেছিল এবং তারপর কোচিতে এসে জাহাজ নোঙর করে। ”
আইআরআইএস দেনা রণতরী নিয়েও মুখ খুলেছেন এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন,”যখন একটি জাহাজ শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছিল,তখন আরেকটি জাহাজ আইআরআইএস দেনা মার্কিন হামলার শিকার হওয়ার পর ডুবে গিয়েছিল।” তবে, ভারত মহাসাগরে মার্কিন হামলা নিয়ে দিল্লির অবস্থান কী সেই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা বিতর্ক শুরু হয়। সেই বিষয়ে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, সোশ্য়াল মিডিয়ায় তর্ক-বিতর্ক চলছে অনেক। কিন্তু ভারত মহাসাগরের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে।
উল্লেখ্য, ভারতীয় নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে বিশাখাপত্তনমে একটি মহড়ায় অংশ নিতে গিয়েছিল ইরানের রণতরী ডেনা। কিন্তু, ৪ মার্চ ভোরেই ভারত মহাসাগরের বুকে ডেনার উপর হামলা চালিয়েছিল মার্কিন ডুবোজাহাজ। হামলায় ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে কয়েকদিন আগেই ইরানি রণতরী লাভান-কে কোচি বন্দরে নোঙর করার অনুমোদন দিয়েছিল ভারত। সেই নিয়েই বিতর্কের ঝড় ওঠে।