
নয়া দিল্লি : হরমুজ প্রণালীতে ভারতের তেল এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সম্পূর্ণ ছাড় দেয়নি ইরান। প্রত্যেক জাহাজ ভিত্তিক আলাদা করে আলোচনা চলছে ইরানের সঙ্গে। এমনটাই জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। দিন কয়েক আগেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, হরমুজ সব দেশের জন্য়ই খোলা রয়েছে। শুধুমাত্র আমেরিকা ও ইজ়রায়েল-সহ শত্রু দেশগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়নি। বাকি দেশগুলি নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে হরমুজ পারাপার থেকে বিরত রেখেছে। এর সঙ্গে ইরানের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পরই আশা করা হচ্ছিল, জ্বালানি সংকট এবার হয়তো কাটতে চলেছে ভারতে। কিন্তু, এবার জয়শঙ্কর জানিয়ে দিলেন হরমুজে যাতায়াতে সম্পূর্ণ ছাড় নেই ভারতের।
কী জানালেন জয়শঙ্কর?
বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে ভারতের। প্রতিটি জাহাজ নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ভারতীয় জাহাজ ছাড় দেওয়ার পরিবর্তে পাল্টা শর্ত চাপিয়েছে ইরান। শর্তে নাকি বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ এবং মেডিকেল সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে ভারতকে। একইসঙ্গে, ভারতের হাতে আটক তিনটি ইরানিয়ান ট্যাঙ্কার অবিলম্বে ছাড়তে হবে। প্রসঙ্গত, ভারতীয় জলসীমায় বেআইনিভাবে পণ্য পরিবহনের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের তিনটি ট্যাঙ্কার আটক করে ভারত।
প্রসঙ্গত, ভারতের দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালীতে ছাড় দেওয়ার পর থেকে আর কোনও জাহাজ চলাচলের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন এলাকায় ভারতের ২২টি জাহাজ এখনও আটকে রয়েছে। হরমুজ পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তবে ট্রাম্পের আবেদন মেনে হরমুজ প্রণালীকে ইরানের দখলমুক্ত করতেন যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না ভারত। এ বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক করতে ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উপরই জোর দেবে ভারত।
দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, গ্যাস সংকটে বিকল্প পথ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই পিএনজি বা পাইপ দ্বারা সরবরাহ প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের যে সকল এলাকায় পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে, সেই সকল এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এলপিজির পরিবর্তে পিএনজি ব্যবহার করতে হবে।