Delimitation Bill: ডিলিমিটেশন বিল পাশে সংখ্যা জোগাড়ের আরও কাছে কেন্দ্র, এবার মোদীর পাশে অকালি দল
SAD-BJP Alliance: দুই দশকের বেশি জোটসঙ্গী ছিল বিজেপি ও অকালি দল। কিন্তু, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তারা জোট ভাঙে। কেন্দ্রের তিনটি কৃষি আইনের বিরোধিতা করে এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে যায় অকালি দল। এরপর ২০২২ সালে পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দুই দল আলাদাভাবে লড়াই করে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পঞ্জাবে একটি আসনও জিততে পারেনি বিজেপি। অকালি দলও মাত্র একটি আসন পায়।

নয়াদিল্লি: আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল পাশে আরও একধাপ এগোল কেন্দ্র। এবার নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহদের পাশে দাঁড়াল শিরোমণি অকালি দল (SAD)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সুখবীর সিং বাদলের বৈঠকের একদিন পরই ডিলিমিটেশন বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার পক্ষে প্রকাশ্যে সওয়াল করল শিরোমণি অকালি দল (SAD)। সুখবীরের দলের এই অবস্থানকে আসন্ন পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ও অকালির ফের জোট গড়ার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
শনিবার কেন্দ্রের ডিলিমিটেশন পরিকল্পনাকে সমর্থন করে অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদল জানান, দেশে অবিলম্বে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করতে হবে। একইসঙ্গে সব রাজ্যে আসন সংখ্যা অভিন্নভাবে ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কেন্দ্রের প্রস্তাবকেও সমর্থন জানিয়েছে তাঁর দল। এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে সুখবীর বাদল লেখেন, ‘শিরোমণি অকালি দল আজ চণ্ডীগড়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে দেশে অবিলম্বে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিখ গুরুদের শিক্ষা থেকেই শিরোমণি অকালি দল অনুপ্রেরণা পায়। তাঁরা মহিলাদের মর্যাদা, সমতা এবং সমান অধিকারের পক্ষে ছিলেন। শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি (SGPC) ইতিমধ্যেই নিজেদের হাউসে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ চালু করে উদাহরণ তৈরি করেছে।’
সংসদে আলোচনার জন্য ওঠা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির প্রসঙ্গ তুলে সুখবীর জানান, অকালি দল এমন একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ ডিলিমিটেশন চায়, যাতে সব রাজ্য সমান প্রতিনিধিত্ব পায়। তিনি বলেন, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সংসদে সব রাজ্যের আসন সংখ্যা অভিন্নভাবে ৫০ শতাংশ বাড়ানোর যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা সমর্থন করেছে শিরোমণি অকালি দল। তাঁর দাবি, মহিলা সংরক্ষণ এবং ডিলিমিটেশন—দুটিই অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
তবে অকালি দলের এই অবস্থান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কেন্দ্র প্রথমবার সংসদে ডিলিমিটেশন বিল আনার সময় তার বিরোধিতা করেছিল অকালি দল। বিরোধীদের সঙ্গে ভোট দিয়ে বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল তারা। সেই সময় অকালি দলের অভিযোগ ছিল, বিলটি পঞ্জাবের প্রতি বৈষম্যমূলক। তাদের দাবি ছিল, পঞ্জাবে আসন সংখ্যা সামান্য বাড়লেও প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি আসন বাড়বে। এখন অবশ্য ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধির নিশ্চয়তার সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিলকে সমর্থন করছে দল। ফলে বিজেপির সঙ্গে জোটের আলোচনা ফের গতি পেয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
দুই দশকের বেশি জোটসঙ্গী ছিল বিজেপি ও অকালি দল। কিন্তু, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তারা জোট ভাঙে। কেন্দ্রের তিনটি কৃষি আইনের বিরোধিতা করে এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে যায় অকালি দল। এরপর ২০২২ সালে পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দুই দল আলাদাভাবে লড়াই করে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পঞ্জাবে একটি আসনও জিততে পারেনি বিজেপি। অকালি দলও মাত্র একটি আসনে জয় পায়। শুক্রবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সুখবীর বাদলের বৈঠকের পর থেকেই দুই দলের পুরনো জোট ফেরার জল্পনা শুরু হয়। এবার আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণ বিলে সমর্থন জানিয়ে কার্যত সেই জল্পনাতেই সিলমোহর দিলেন সুখবীর।
