
নয়াদিল্লি: আইপ্যাক মামলায় আবারও সুপ্রিম কোর্টের কাছে সময় চাইল রাজ্য। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া বেঞ্চে ফের সময় চেয়ে আবেদন জানান রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাতে সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহেতার বক্তব্য, “সময় নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ।” ইতিমধ্যেই রাজ্যকে যে আদালত চার সপ্তাহ সময় দিয়ে দিয়েছে, তা স্মরণ করান বিচারপতি। বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল তখন বলেন, ” আমরা রিজয়েনডার জমা দিতে চাই।”
সলিসেটর জেনারেলের বক্তব্য
সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহেতার বক্তব্য, ” এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার, যে একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন। ৪ সপ্তাহ পরেও তাঁরা কিছু জমা দেওয়ার জন্য সময় চাইছেন।” তখন রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান সওয়াল করেন, “আমরা আমাদের বক্তব্য জমা দেওয়ার সময় পাচ্ছি না।” তাতে বিচারপতির বক্তব্য, সময় নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। কারণ ইতিমধ্যেই চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়ে গিয়েছে। সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহেতা অভিযোগ করেন, “যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী জোর করে তদন্ত চলাকালীন ঢুকেছেন, তা অত্যন্ত ‘আনইউজুয়াল।’
এর আগে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করে ইডি। হলফনামায় ইডি-র তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, রাজ্য় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীদের মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতেই তল্লাশি বন্ধ করতে বাধ্য হয় ইডি অফিসাররা, হলফনামায় এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি, কোনও তদন্তকারী সংস্থা কখনওই তল্লাশি চলাকালীন কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে সেখানে প্রবেশ করতে এবং জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে না, সেটাও উল্লেখ করেইডি।
ইডি-র মামলা নিয়েই প্রশ্ন রাজ্যের
রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান ইডি-র মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে সওয়াল শুরু করেন।
রাজ্যের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রা বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী যেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি তদন্ত করছে, সেখানে বলপূর্বক ঢুকে পড়ছেন, এটা মোটেই সুখকর চিত্র নয়। যদি আর্টিকেল ৩২ বা আর্টিকেল ২২৬ অনুযায়ী মামলা করা না যায়, তাহলে কী করা যাবে? কাল অন্য কোন মুখ্যমন্ত্রী একই কাজ করতে পারেন।”
রাজ্যের তরফে তখন বলা হয়, “আমরা বলছি, কেন্দ্রীয় সরকার এক্ষেত্রে মামলা করতে পারে। কিন্তু কোন দপ্তর নয় বা CID বা ইডির মত সংস্থা নয়। যদি তারা করেন, তাহলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করে এ ধরনের সংস্থার ক্ষমতা এক্তিয়ার সব নতুন করে ঠিক করতে হবে।”
এর আগে আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল ৮ জানুয়ারির ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণ করতে। এই প্রক্রিয়াগুলো নিশ্চিত করার জন্যও সময়ের প্রয়োজন ছিল। রাজ্যকে সময় দেয় শীর্ষ আদালত। এদিন ফের শুনানি ছিল। তাতে আবারও সময় চায় রাজ্য। পাল্টা ইডি কেন মামলা করেছে, তার যৌক্তিকতা কোথায়, সেই নিয়েই প্রশ্ন তোলে রাজ্য।
চলতি বছরের শুরুর দিকেই কলকাতায় ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালায় ইডি। পরে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে তাঁর অফিসেও তল্লাশি চলে। কয়লা দুর্নীতি সংক্রান্ত এই মামলায় তল্লাশি চলে। ইডি-র অভিযোগ, আইপ্যাক অফিসে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ আধিকারিকরা ক্ষমতাবলে ঢুকে যান, তদন্তে বাধা দেন। গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চলে আসেন বলে অভিযোগয অন্যদিকে রাজ্যের দাবি ছিল, নির্বাচনের আগে সংবেদনশীল রাজনৈতিক তথ্য হাতিয়ে নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল।