
নয়া দিল্লি: এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আগাম পিটিশন দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে শুনানি। মেনকা গুরু স্বামীর আগাম পিটিশনে অত্যন্ত বিরক্ত হন প্রধান বিচারপতি। মেনকাকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, ‘সিস্টেমে ভরসা রাখুন।’ বিচারাধীন ভোটারদের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি এদিন স্পষ্ট করে দেন, ”
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ১০ লক্ষ কাজ হয়ে গিয়েছে।” এরপরই মেনকাকে সতর্ক করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “জুডিশিয়াল অফিসারদের কোনও প্রশ্নের মুখে ফেলবেন না, আমি কড়া ভাবে বলছি। জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ করছেন, যাঁরা জেনুইন, তাঁদের যুক্ত করা হবে।”
এসআইআর সংক্রান্ত মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। তারই মধ্যে সোমবার ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। গতকাল মেনকা গুরুস্বামী বলেছিলেন, “ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। নথিও রেকর্ড করা হয়নি। তাঁরা আগে ভোট দিয়েছেন, এখন তাঁদের নথি নেওয়া হচ্ছে না।”
রাজ্যে প্রায় ৬০লক্ষ ভোটার বিচারাধীন। তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর। রাজ্যের প্রায় সমস্ত জেলা জজ আদালতের বিচারকরা আপাতত ভোটারদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে এত নথি খতিয়ে দেখা সমস্যার, তা বুঝতে পেরেই ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে জুডিশিয়ার অফিসারদের নিয়োগের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। দুই রাজ্য থেকে আরও ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসারকে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে রাজ্যে ৫০৫ জন জুডিশিয়াল অফিসার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাচ্ছেন।
সুপ্রিম কোর্ট এদিন স্পষ্ট করে দেয়, এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষের মতো। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে দেন, “বিচারাধীন নামের বিষয়টি সুপ্রিম নজরদারিতে চলছে। জুডিশিয়াল অফিসাররা তথ্য পরীক্ষা করছেন।” তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভোট ঘোষণার আগেই ‘বিচারাধীন’ যদি ভোটে নিযুক্ত আধিকারিকদের কোথাও কোনও গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাহলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।