
দিল্লি: দুর্নীতি নিয়ে চুপ করে যেতে বলেছিল দল’, দু’দিন আগেই উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যেই শুরু হয়ে গিয়েছিল চাপানউতোর। এমনকী আইপ্যাকের পরামর্শ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। এবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা। যদিও এ নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ ঋতব্রতই। প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই রোজই মুখ খুলছেন তৃণমূলের কোনও কোনও নেতা-মন্ত্রী। এরইমধ্যে ঋতব্রতর মতো হেভিওয়েট নেতার এ মন্তব্যে যে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক হয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সেই বৈঠকের ঠিক আগেই দিল্লিতে বঙ্গভবনে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রত। এককালে সিপিএম থেকে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন ঋতব্রত। তারপর একাধিকবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। মমতাকে তো চৈতন্যদেবের উত্তরাধিকারীও বলেছিলেন। হয়েছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। সেই ঋতব্রত এখন হঠাৎ রাজ্যে পালাবদলের পর যে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে খোদ মমতা হেরেছেন তাঁর সঙ্গে কেন সাক্ষাৎ করতে গেলেন?
ঋতব্রত যদিও বলছেন এতে এত অবাক হওয়ার কিছুই নেই। সাক্ষাতের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, আমি নামছিলাম তখন। হঠাৎ কেউ একজন বলছেন কী এমএলএ সাহেব বঙ্গভবনে উঠেছেন! তাকিয়ে দেখি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। উনি আমাকে নমস্কার করেন। আমিও প্রকিনমস্কার করি। তারপর আমি বলি না দাদা আমি আমার বাংলোটা ছেড়ে দিতে এসেছি। উনি আমাকে বলেন, আমি তো সব বিরোধী বিধায়কদের মিটিংয়ে ডাকছি। মিটিংয়ে আসবেন। আমি বলি খবর পেলে আসব। এই ৪০ সেকেন্ডে নিয়েই এখন চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।
খানিক বিস্ময়ের সঙ্গেই ঋতব্রত বলছেন, “অনেকেই কলকাতা থেকে ফোন করছেন। আমি নাকি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গোপন বৈঠক করতে দিল্লিতে এসেছি। দিল্লিতে কেন এসেছিলাম পার্লামেন্টে তার রেকর্ড আছে! এখন ৪০ সেকেন্ডের কথোপকথোনে কেউ যদি গোপন বৈঠকের তত্ত্ব খুঁজে পান তাতে আমার কোনও সমস্যা নেই।”