SIR Case In Supreme Court: ‘আর লাক্সারি দেখাতে পারি না’, মমতার জোর সওয়াল শুনেই কমিশনকে কেন বললেন প্রধান বিচারপতি?

SIR Case In Supreme Court: শুনানি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আসন পরিবর্তন করেন মমতা। চলে আসেন একেবারে সামনের সারিতে। ভার্চুয়ালি শুনানিতে উপস্থিত হন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। সওয়াল করছেন শ্য়াম দেওয়ান। গতদিনের কী নির্দেশ ছিল, তা পড়ে শোনাচ্ছেন আইনজীবী।

SIR Case In Supreme Court: আর লাক্সারি দেখাতে পারি না, মমতার জোর সওয়াল শুনেই কমিশনকে কেন বললেন প্রধান বিচারপতি?
এজলাসে শুনানি মমতারImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Feb 04, 2026 | 3:35 PM

নয়া দিল্লি: সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্টের বাইরে টান টান উত্তেজনা। ১০টার কিছু আগেই সুপ্রিম কোর্টে চলে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলা ১টার কিছু পর সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর মামলার শুনানি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর এজলাসে আইটেম নম্বর ৩৭ (মমতার মামলার) শুনানি হয়। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের করা এসআইআর সংক্রান্ত মামলা প্রথমে শোনে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এই মামলার সঙ্গেই মমতার করা মামলাটি শোনা শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট।  এদিন শুরু থেকে নজিরবিহীনভাবে শুনানিতে নিজেই হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে মমতার মামলার সওয়াল করছেন আইনজীবীরাই। তখন সামনের সারিতে আসেননি মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু শুনানি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আসন পরিবর্তন করেন মমতা। চলে আসেন একেবারে সামনের সারিতে। ভার্চুয়ালি শুনানিতে উপস্থিত হন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। সওয়াল করেন মামলাকারী জয় গোস্বামীর আইনজীবী শ্য়াম দেওয়ান। গতদিনের কী নির্দেশ ছিল, তা পড়ে শোনান আইনজীবী।

শুরুতেই নোট জমা দেওয়া হয়েছে মমতার তরফে। বিচারপতিদের তা দেখার জন্য আবেদন জানান আইনজীবী। তাঁদের আবেদন, অনলাইনে প্রকাশ করা হোক। কেন, কোন কারণে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য ডাকা হচ্ছে, সেটা সামনে আনার আবেদন করা হয়েছে। রাজ্যের তরফে বলা হয়, ১১ দিন বাকি রয়েছে, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার। ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি হবে। ৩২ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি আছে। চার দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করতে প্রতিদিন ১৫ লক্ষ মানুষের শুনানি করতে হবে। মানুষ চার পাঁচ ঘণ্টা ধরে লাইনে অপেক্ষা করছে।

এসবের মাঝেই সওয়াল করার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কপিল সিব্বলের সওয়ালের মাঝে মুখ্যমন্ত্রী নিজে সওয়াল করেন।  তখন তাঁকে সওয়াল করতে সুযোগ করে দেন বিচারপতিরা।  বিচারপতিদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মমতার সওয়াল: “আমরা বিচার পাচ্ছি না।”  কার্যত এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থাকে গোটা দেশ।

মুখ্যমন্ত্রী বিচারপতির সামনে সওয়াল করেন: “আমি বিচার পাচ্ছি না। আমি ৬ বার চিঠি লিখেছি জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। একবারও চিঠির উত্তর পাইনি।” তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেই প্রধান বিচারপতির সামনে বলতে শোনা যায়, ‘আমি একজন সাধারণ মানুষ। হয়তো কম গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধান বিচারপতি: মুখ্যমন্ত্রীকে থামিয়েই প্রধান বিচারপতি বলেন, “রাজ্য সরকার মামলা করেছে, সেই মামলা লড়ছেন কপিল সিব্বল।

তখন প্রধান বিচারপতির তরফেও স্পষ্ট করা হয়,  “১৯ জানুয়ারি সমস্যা শুনে আমরা নির্দেশ দিয়েছি। কোন নিরীহ মানুষের নাম বাদ যাক, আমরা চাইনা। আমরাও নিশ্চিত করতে চাই। কোন জীবন্ত মানুষকে মৃত দেখানো হোক, চাই না। পরিযায়ীরা যেন ভোট দিতে পারে।” নামের সমস্যার কথাও স্বীকার করছেন প্রধান বিচারপতি।

তখন আবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে আইনজীবী ডি এস নাইডু সওয়াল করেন, “কী নিয়ে সওয়াল করতে চাইছেন। তা আমরা জানি না। তাই আজকে শুনানি না করে সোমবার করা হোক।”

জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে সময় দিতে চাইলেন না প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি বলেন, “মাত্র ৪ দিন বাকি রয়েছে। আর সময় দেওয়ার লাক্সারি দেখাতে পারি না।”

মমতা: একজন মেয়ের বিয়ের পর পদবী পরিবর্তন হয়। তাঁদের ডাকা হচ্ছে। অনেকে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন, তাঁদেরও ডাকা হচ্ছে। আপনার নির্দেশ অমান্য করেছে। আপনার নির্দেশ কি ওরা অমান্য করতে পারে? আপনার কোর্ট বলেছে, আধার কার্ড নেওয়া হবে কিন্তু তারা নিচ্ছে না। মাত্র চারটি বিরোধী শাসিত রাজ্যে এসআইআর করা হচ্ছে। এত তাড়াহুড়োর কী রয়েছে,যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর করতে হচ্ছে? ফেস্টিভ্যাল সিস্টেমে করেছে তারা। ১০০ জন লোক মারা গিয়েছেন।  বিএলও-রা মারা যাচ্ছেন। বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। অসমকে কেন টার্গেট করা হচ্ছে না?

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি: আধার কার্ড নিয়ে যা বলার আমরা বলে দিয়েছি। আপনি একটা টিম দিন, যাদের ইলেকশন কমিশন ডেপুটেশনে নেবে, যাঁরা এই ‘স্পেলিং মিসটেক’-এর বিষয়টা দেখবে।

মমতা:  ERO, DM-দের কোনও ক্ষমতা নেই। সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে রোল অবজারভার আনা হয়েছে। মাইক্রো অবজারভাররা সব নাম বাদ দিচ্ছে। তাঁর কথায়, মাইক্রো অবজারভাররা মানুষের কথা শুনতেই চাইছেন না, কোনও নথি গ্রহণ করছেন না।

রাকেশ দ্বিবেদী (ECI-এর আইনজীবী): SDM পদমর্যাদার অফিসারের জন্য আমরা আবেদন করেছি। কিন্তু পাইনি। তাই মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে। আমরা আইন অনুসারে মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করেছি।

এরপর বলা শুরু করেন সলিসেটর জেনারেল। ঠিক তখনই বলেন মমতা।

মমতা: যা বলছেন, আমার আপত্তি আছে। অন্য রাজ্যে যত জেলা আছে, বাংলায় তার থেকে জেলার সংখ্যা কম। SDM-দের সংখ্যা আমাদের কম। ওরা যা চেয়েছে আমরা দিয়েছি। আসলে ওরা বাংলাকে টার্গেট করছে। কেবলমাত্র বাংলাতেই মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে। বাংলাকে বুলডোজ করা হচ্ছে।

বর্ষীয়ান আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ (পিটিশনারদের):  প্রত্যেক রাজ্যে নতুন নতুন ইস্যু হবে।  একটি নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা উচিত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

এদিন সওয়াল জবাব শুনে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, পর্যাপ্ত যোগ্য অফিসার পাওয়া গেলে মাইক্রো অবজারভারের প্রয়োজন নাও পড়তে পারে। এরপর প্রধান বিচারপতি বলে দেন, কমিশনকে জানাতে হবে, তারা কী কী পদক্ষেপ করছে। রাজ্য কতজন অফিসার দিতে পারবেন, সেটাও জানাতে হবে। পরের সোমবার পরবর্তী শুনানি।