
লখনউ: পুলিশের কাছে ফোন। ওপ্রান্ত থেকে কাঁপা কাঁপা গলায় এক মহিলা বললেন, “আমার মেয়ে নাগিন হয়ে গিয়েছে। ওর ঘর থেকে সাপের খোলস পেয়েছি। প্লিজ ওকে খুঁজতে সাহায্য করুন”। এমন ফোন পেয়ে হকচকিয়ে গিয়েছিল পুলিশও। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসে পুলিশ। তারা দেখেন যে সত্যিই তো বিছানার উপরে সাপের খোলস পড়ে আছে। তাহলে কি সত্যিই ১৯ বছরের যুবতী সাপ হয়ে গেল?
উত্তর প্রদেশের ঔরিয়া জেলাতে এই অদ্ভুতুড়ে ঘটনা ঘটেছে। চলতি সপ্তাহের সোমবার পুলিশ ফোন পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখে যে যুবতীর ঘরে শুধু একটা সাপের খোলস পড়ে রয়েছে। পাশে আঙ্টি ও চুড়ি পড়ে আছে। ওই যুবতীর কোনও হদিস নেই। যুবতীর পরিবার জানায়, বিগত কয়েক মাস ধরেই নাকি যুবতী সাপের স্বপ্ন দেখছিল। বলত, যখন সে ঘুমিয়ে পড়ত, তখন একজন সাপুড়ে আসে এবং তাঁর পাশে শুয়ে থাকে। তিন মাস আগে মৌনপুরীর শেষনাগ মন্দিরেও যায় যুবতী। সেখান থেকে শেষনাগের মূর্তিও নিয়ে আসে। ওই মন্দির থেকে আসার পর নাকি আরও বেশি করে সাপের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল যুবতী।
যে দিন যুবতী ‘উধাও’ হয়ে যায়, সেদিন যুবতী সঙ্গে করে শুধু শেষনাগের মূর্তিটিই নিয়ে গিয়েছিল। এই সব ঘটনায় পরিবারের বদ্ধমূল ধারণা হয়ে যায় যে ওই যুবতী সত্যি হয়তো নাগিন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পুলিশও নাছোড়বান্দা। এই নাগিন হয়ে যাওয়ার তত্ত্বে বিশ্বাস করতে নারাজ।
পুলিশ নিখোঁজ মামলার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, ওই যুবতীর নিজস্ব মোবাইল ছিল না। মায়ের কি-প্যাড ফোন ব্যবহার করত। সেখানে এক যুবকের সঙ্গে কথা বলত সে। ট্র্যাক করে ওই যুবকের বাড়িও খুঁজে বের করা হয়, সেখানে ওই যুবক বা যুবতী-কারোরই হদিস মেলেনি।
পরে তদন্তে আরও জানা যায়, ওই যুবতী বিগত তিন মাস ধরে এই পরিকল্পনা করছিল বাড়ি থেকে পালানোর। গল্পও সাজিয়েছিল সেই মতো। গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, কয়েকদিন আগে তাঁকে গ্রামের শেষ প্রান্তে জংলা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল। পুলিশ বুঝে যায় যে সাপের খোলস খুঁজতেই জঙ্গলে যাচ্ছিল। পুলিশ এখনও ওই যুবক-যুবতীর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।