
হায়দরাবাদ: গণহত্যা। মানুষ নয়, পথকুকুরদের গণহত্যা করা হল তেলঙ্গানায়। বিগত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ৫০০ কুকুরকে বিষ দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক গ্রামে এই কুকুর হত্যা করা হয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, সম্প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাসিন্দাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে ক্রমবর্ধমান পথকুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে গিয়েই কি ৫০০ কুকুরকে হত্যা করা হল? এই প্রশ্নই উঠছে।
গত ১২ জানুয়ারি আদুলাপুরম গৌতম (৩৫) নামক এক পশুপ্রেমী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যে পরিকল্পনা মাফিক কুকুর হত্যা করা হচ্ছে। কামারেড্ডি জেলায় ভবানীপেট, পালওয়াঞ্চা, ফরিদপেট, ওয়াদি ও বন্দরামেশ্বরম গ্রামে কুকুরদের হত্যা করা হচ্ছে। বিগত দুই-তিন দিনে অন্তত ২০০ পথকুুকুরকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রামের সরপঞ্চরাই এই বিষ দিয়ে হত্যা করছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রামের পাঁচজন সরপঞ্চ মিলে কিশোর পান্ডে নামক এক ব্যক্তিকে ভাড়া করেছিল কুকুরদের বিষ দেওয়ার জন্য। ওই ব্যক্তি কুকুরদের বিষের ইঞ্জেকশন দিয়েছে। ওই দিন বিকেলবেলাই একটি মন্দিরের কাছ থেকে কুকুরদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রামের বাইরে কুকুরদের হত্যা করে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। সেই দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে ভিসেরা স্যাম্পেল পাঠানো হয়েছে যে কী ধরনের বিষ দেওয়া হয়েছে, তা জানার জন্য।
গত ডিসেম্বরেই নির্বাচনের আগে কয়েকজন প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ভোটে জিতলে পথকুকুর ও বাঁদরের উৎপাত দমন করা হবে। চলতি মাসেই দুইজন মহিলা সরপঞ্চ সহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় ৩০০ পথকুকুরকে বিষ দেওয়ার অভিযোগে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে কুকুরদের গণহত্যার বিষয়টি ওঠে। শীর্ষ আদালতের তরফে বিগত পাঁচ বছরে পথকুকুরদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয় যে পথকুকুরদের কামড়ালে, তাদের যারা খাবার দেন, তাদের দায়ী করা হবে। প্রয়োজনে রাজ্যগুলিকে মোটা অঙ্কের জরিমানা আরোপ করার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।