
গুয়াহাটি: উত্তর-পূর্ব ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও জাতীয় সড়ক মুহূর্তের মধ্যে হয়ে উঠল রানওয়ে। তাও আবার যুদ্ধবিমানের। হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য হলেও এমনটাই ঘটেছে। অসমের ডিব্রুগড় জেলার মোরান সংলগ্ন এনএইচ-১২৭ (ডেমো-মোরান অংশ)-এর উপর সফলভাবে ওঠানামা করল ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই-৩০ এমকেআই, রাফাল ও তেজসের মতো অত্যাধুনিক ফাইটার জেট। পাশাপাশি, সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিসের মতো ভারী বিমানগুলিও এদিন ট্রায়াল রানে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়। প্রায় ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হাইওয়েটিকে ‘ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফেসিলিটি’ (ELF) হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানা যাচ্ছে।
চিন সীমান্তের খুব কাছে ভারতের তরফে পদক্ষেপ কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। এই ধরনের পরিকাঠামো নির্মাণ ভারতীয় বায়ুসেনার ইস্টার্ন সেক্টরের শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যদি শত্রুর অতর্কিত আক্রমণে মূল বিমানঘাঁটি বা এয়ারবেস ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এই হাইওয়েকেই বিকল্প রানওয়ে হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে বায়ুসেনা। সাধারণ সময়ে এটি যেমন যান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হবে, তেমনই জরুরি অবস্থায় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত সেনা ও ত্রাণ পৌঁছে দিতে এই হাইওয়ে-এয়ারস্ট্রিপ গেম চেঞ্জার হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে এই উদ্যোগকে কেবল চিনের-বিরোধী প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন না সামরিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বাংলাদেশ সীমান্তের অত্যন্ত কাছে এই ধরনের উচ্চমানের সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে ওপার বাংলাকেও ঘুরপথে একটা কড়া বার্তা দেওয়া সম্ভব হল। সোজা কথায় এদিক ওদিক করলে ছাড় পাবে না বাংলাদেশও। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইউনূস প্রশাসনের কাছে ভারতের এই সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলের।