Supreme Court: ‘মায়ের খুব করুণ অবস্থা’, সাড়ে ৩ বছরের সন্তানকে ফেরাতে কড়া অবস্থান সুপ্রিম কোর্টের
Supreme Court on child custody: তিন বছর বয়সের এক কন্যাসন্তানকে তাঁর বাবা লুকিয়ে আমেরিকায় নিয়ে চলে যান। জানতেও পারেননি শিশুর মা। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন সেই মা। এই মামলায় আদালত স্পষ্ট বলেছে যে বাবার কাছে ওই শিশু বিদেশে কী পরিস্থিতিতে রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

নয়া দিল্লি: কর্মসূত্রে বর্তমানে বহু ভারতীয় দম্পতিই বিদেশে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি এমন বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বিবাহ বিচ্ছেদ বা কোনও দাম্পত্য সমস্যা তৈরি হলে, বাবা বা মা, যে কোনও একজন সন্তানকে নিয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছেন। একটি মামলায় এই সমস্যার কথাই উল্লেখ করল সুপ্রিম কোর্ট। ভারতীয় বিচারব্যবস্থাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেই এই কাজ করে বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালা ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ।
মামলায় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি কোনও পালিয়ে যাওয়া অভিভাবক সন্তানকে আর ফেরত না আনেন, তাহেল ভারতে যিনি থাকবেন, তাঁকেই শাস্তিভোগ করত হবে।
কী সেই মামলা?
তিন বছর বয়সের এক কন্যাসন্তানকে তাঁর বাবা লুকিয়ে আমেরিকায় নিয়ে চলে যান। জানতেও পারেননি শিশুর মা। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন সেই মা। এই মামলায় আদালত স্পষ্ট বলেছে যে বাবার কাছে ওই শিশু বিদেশে কী পরিস্থিতিতে রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তাকে মায়ের ভালোবাসা ও স্নেহ থেকে বঞ্চিত করা অন্যায় বলেও পর্যবেক্ষণ আদালতের। বিচারপতিদের বেঞ্চ বলে, “মায়ের অবস্থা খুব করুণ। আমরা জানিনা ওই শিশু একজন কর্মরত বাবার কাছে কী অবস্থায় আছে।”
ওই শিশুর ঠাকুমা-ঠাকুরদা যাতে আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে গোপনে দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন, তার জন্য মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে পুনরায় ‘লুক আউট সার্কুলার’ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের নির্দেশ
অভিযুক্ত বাবাকে চার সপ্তাহের মধ্যে সন্তানকে নিয়ে ভারতে ফিরে আসার জন্য শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ না মানলে ভারতে তাঁর (ওই ব্যক্তির) বাবা-মা-কে গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে যে যদি ওই ব্যক্ত নিজে না ফিরতে চান, তাহলে কোনও উপযুক্ত অভিভাবকের মাধ্যমে শিশুকে ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অথবা, মা যদি আমেরিকায় যান, তবে সন্তানকে সেখানে মায়ের হাতে তুলে দিতে হবে। শিশুর ভবিষ্যৎ ও সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে শীর্ষ আদালত এই কড়া অবস্থান নিয়ে।
