
নয়া দিল্লি: রাজ্য সরকার বা কোনও রাজনৈতিক দলের দান-খয়রাতির রাজনীতি নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে আদালতে। আর এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সেই দান-খয়রাতি নিয়ে বড় পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের। কেন ভোটের আগে নগদ টাকা দেওয়ার স্কিম চালু করা হয়, সেই প্রশ্ন তুলল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
ভোটের আগে কেন বিভিন্ন রাজ্যের সরকার এভাবে দান-খয়রাতির স্কিম ঘোষণা করে, সেই প্রশ্নই উঠল বৃহস্পতিবার। এর ফলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধাক্কা খাবে বলে মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এভাবে আদতে তোষণা করা হচ্ছে বলেই মন্তব্য করেছে আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে এদিন তামিলনাড়ুর একটি মামলার শুনানি ছিল। ইলেকট্রিসিটি অ্যামেন্ডমেন্ট রুলকে চ্যালেঞ্জ করে তামিলনাড়ু পাওয়ার ডিসট্রবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তরফে একটি মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার শুনানিতেই এদিন বিনামূল্যের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলেছে যে, “সম্প্রতি কিছু কিছু রাজ্যে কী ঘটেছে, তা আমাদের জানা আছে। ভোটের আগে হঠাৎ উন্নয়নের স্কিম ঘোষণা করা হয়েছে। এভাবে যদি সরাসরি নগদ টাকার স্কিম ঘোষণা করা হয়, তাহলে কি মানুষ আর কাজ করতে চাইবে?” সিনিয়র অ্যাডভোকেট গোপাল সুব্রহ্মণ্যর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কখনও কখনও আমরা সত্যিই বিরক্ত হই। দেশ জুড়ে এটা ধরনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে? কে বিল দিতে পারে আর কে পারে না, তার বিভেদ কে করবে?”
সুপ্রিম কোর্ট এমন একটি সময়ে এই বিষয় নিয়ে কথা বলেছে, যার কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার যুবসাথী স্কিম ঘোষণা করেছে, যেখানে বেকারভাতা হিসেবে নগদ টাকা দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকার অঙ্কও বাড়ানো হয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিসগঢ় সহ একাধিক রাজ্যেই এভাবে ভোটের আগে দান-খয়রাতির ঘোষণা করতে দেখা গিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র এই প্রসঙ্গে বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট যা বলেছে, তা একেবারে সঠিক কথা। ভারতে যে সম্পদ আছে, তা সবার কাছে পৌঁছে গেলে মানুষের কষ্ট থাকত না। কিন্তু রাজনৈতিক জাঁতাকলে সেটা হয় না। টাকা দেওয়া ভাল, কিন্তু কতদিন পর্যন্ত দেওয়া হবে। কাজের বিনিময়ে টাকা দেওয়া হচ্ছে না।”