Supreme Court: ‘আনফরচুনেট ব্লেম গেম’, রাজ্যের ভূমিকায় চরম বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট, আনা হতে পারে জুডিশিয়াল অফিসার

SIR Case: আগের শুনানিতে অফিসার নিয়োগ নিয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফিসারদের তথ্য কমিশনে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই অফিসার নিয়োগের প্রশ্নে এবার আরও বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট। গ্রুপ বি অফিসারদের স্টেটাস জানতে চাইলেন বিচারপতি।

Supreme Court: আনফরচুনেট ব্লেম গেম, রাজ্যের ভূমিকায় চরম বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট, আনা হতে পারে জুডিশিয়াল অফিসার

| Edited By: তন্নিষ্ঠা ভাণ্ডারী

Feb 20, 2026 | 3:14 PM

নয়া দিল্লি: অফিসার নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের ভূমিকায় চরম বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট। গত সপ্তাহেও প্রশ্ন ওঠে, রাজ্যের নিয়োগ করা অফিসারদের পরিচয় নিয়ে। এদিন শুনানির শুরুতেই ফের সেই অফিসারদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানতে চান, অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে কি না। ৮৫০৫ জন অফিসারের তথ্য ইতিমধ্যেই কমিশনকে দেওয়া হয়েছে বলে জানাল রাজ্য।

গ্রুপ বি অফিসারদের স্টেটাস জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট

এদিন শুনানির শুরুতেই নির্বাচন কমিশন অভিযোগ তোলেন, যে ডকুমেন্টস স্ক্রুটিনি হওয়ার কথা ছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আসার পর কমিশন সেই ডকুমেন্টস আপলোড করা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরই প্রধান বিচারপতি জানতে চান, গ্রুপ বি অফিসারদের এই মুহূর্তে স্টেটাস কী? কমিশন উপযুক্ত যোগ্যতার অফিসার পেয়েছে কি না, এদিন জানতে চাইলেন প্রধান বিচারপতি।

কমিশনের আইনজীব জানান, এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি লেখা হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয় রাজ্যের তরফে। কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আমাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। আমরা আধিকারিকের অভাবে সমস্যার মুখে পড়েছি।”

আমরা অত্যন্ত হতাশ: প্রধান বিচারপতি

রাজ্য সরকারের ভূমিকায় চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “আমরা ৯ ফেব্রুয়ারি নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন আধিকারিক দেওয়া হয়নি?” উত্তরে রাজ্যের তরফে আইনজীবী সিব্বল বলেন, “আমরা গ্রুপ বি অফিসার দিয়েছি।” এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, “এসডিম স্তরের অফিসাররা কোথায়?” সিব্বল জানান, তাঁদের মাইক্রো অবজারভারের জন্য দেওয়া হয়েছে। এরপরই প্রধান বিচারপতি বলেন, “ইআরও (ERO) পদের জন্য অফিসার চাওয়া হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত হতাশ। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সহযোগিতা প্রত্যাশিত ছিল।”

রাজ্যের তরফে আর এক আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৬৯ জন এসডিও রাঙ্কের অফিসার আছেন। এ কথা শুনে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এই ইআরও পদে যাঁরা থাকবেন, তাঁদের বিচারবিভাগের মতো কাজ করতে হবে। কারও নাম থাকবে কি থাকবে না তা বিচারকের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটা কোনও ক্লার্কের কাজ নয়। যদি আপনাদের পর্যাপ্ত সংখ্যায় সেই অফিসার না থাকে, আপনারা কমিশনকে বলতে পারেন নিজেদের অফিসার নিয়ে আসতে।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী উল্লেখ করেন, কমিশনের সমস্যা হল যে তাদের অফিসারদের বাংলায় কোনও জ্ঞান নেই। এদিকে, প্রধান বিচারপতি বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়ায় দুই পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।”

আনা হতে পারে জুডিশিয়াল অফিসার 

পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করার জন্য কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা যায় কি না, সে বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা যেতে পারে বলে জানালেন প্রধান বিচারপতি। সেই অফিসার কমিশন এবং সরকার দু’পক্ষকে সহযোগিতা করবে। অথবা অন্য রাজ্য থেকে অফিসার এনে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করা হবে বলে উল্লেখে করেছেন প্রধান বিচারপতি।

সিব্বল বলেন, কোনও অসুবিধা নেই। জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা যেতে পারে। কমিশনের তরফে আইনজীবী বলেন, “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই আমরা এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। অন্য কোনও রাজ্যে এ ধরনের সমস্যা নেই।
পশ্চিমবঙ্গে নাম বাদ দেওয়ার হার যথেষ্ট কম।” কোন রাজ্যে কত নাম বাদ গিয়েছে তার হিসেব তুলে ধরেন কমিশনের আইনজীবী।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক ব্লেম গেম। রাজ্যের নির্বাচিত সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব রয়েছে।” জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করার বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে বলে জানাল শীর্ষ আদালত।