Supreme Court: ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি অর্ডার’, এবার বিচারকের তত্ত্বাবধানে পশ্চিমবঙ্গের SIR
SIR: পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে শুরু থেকেই নানা জটিলতা সামনে এসেছে। এমনকী এই মামলায় সওয়াল করতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার নজিরবিহীন নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত।

নয়া দিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের জন্য নজিরবিহীন নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। এসআইআর প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানে এবার বিচারক! শুক্রবার এমনই নির্দেশ দিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাকে ‘জুডিশিয়াল অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ করা হবে, তা ঠিক করবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে রাজ্যের সিইও-র বৈঠকে বসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
“বিশেষ পরিস্থিতির জন্য ব্যতিক্রমী নির্দেশ” ( it had to pass the extra ordinary order due to extra ordinary circumstances)- শুক্রবার নির্দেশ দেওয়ার সময় এ কথাই বলেন প্রধান বিচারপতি। জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজকে জুডিশিয়াল অফিসার’ হিসেবে নিযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
এদিন কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। যতটা কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘোষণা করা হোক। যা বাকি থাকবে তার জন্য পরে একটি সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বের করা হবে।
এ কথা শুনে রাজ্যের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, “এর ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে।” আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, কারও নাম অন্তর্ভুক্তি করা হচ্ছে না, শুধু নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম দেওয়া হচ্ছে। সাড়ে তিন লক্ষ মানুষকে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন কপিল সিব্বল।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “সব বিষয় জুডিশিয়াল অফিসাররা দেখবেন। সরকারি বাবুরা জুডিশিয়াল অফিসারদের কাজে সহযোগিতা করবেন না, এটা আমরা হতে দেব না। জুডিশিয়াল অফিসারদের অপমানিত হতে দেব না।”
আগামিকাল, শনিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার, রাজ্যের মুখ্য সচিব ও ডিজিপি-কে বৈঠক করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। জেলার ডিএম এবং এসপিকে এই জুডিশিয়াল অফিসারদের কাজের পরিকাঠামোগত সমস্ত সাহায্য করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও বলা হয়েছে যে এই জুডিশিয়াল অফিসাররা যে নির্দেশ দেবেন, তা কার্যকর করার জন্য প্রতি মুহূর্তে ডিএম এবং এসপিকে প্রস্তুত থাকতে হবে। রাজ্য প্রশাসনকে এই নির্দেশ মানতে হবে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমাদের একমাত্র উদ্বেগের বিষয়, যে সঠিক সময়ে কোনও বাধা ছাড়া এই কাজ সম্পন্ন হোক।”
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “একটা ইতিহাস তৈরি হল। এতদিন নির্বাচন কমিশনার ভাবছিলেন, তিনিই সর্বেসর্বা। স্পেশাল অবজারভাররা নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এবার বিচারকরা দেখবেন। তাঁরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”
