
নয়াদিল্লি: অপেক্ষা চলছিল দীর্ঘদিন থেকেই। অবশেষে ভারতীয় বায়ুসেনার আধুনিকীকরণে বহু প্রতীক্ষিত ‘তেজস Mk1A’ যুদ্ধবিমান ছুঁয়ে ফেল এক বড়সড় মাইলফলক। হ্যাল সূত্রে খবর, এই যুদ্ধবিমানের ‘এয়ার-টু-এয়ার’ এবং ‘এয়ার-টু-গ্রাউন্ড’, দুই ধরনেরই অস্ত্র পরীক্ষার ফায়ারিং ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত দিক থেকে সাফল্য এলেও এখনও রয়েছে জট। এত বড় সাফল্যের পরেও বিমানটি বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি এখনও সার্টিফিকেশনে আটকে। সঙ্গে আবার ইঞ্জিন সমস্যার জাঁতাকলও রয়েছে।
হ্যাল জানিয়েছে, তেজস Mk1A এখন প্রযুক্তিগতভাবে ফুল কনফিগারেশনে পৌঁছে গিয়েছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া সফটওয়্যার প্যাচগুলির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এবারের ট্রায়ালে দৃষ্টিসীমার বাইরে আঘাত হানতে কতটা সক্ষম তা খতিয়ে দেখা হয়। ক্লোজ রেঞ্জ কমব্যাটের জন্য ASRAAM মিসাইল পরীক্ষাও হয়। মাটিতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে লেজার গাইডেড বম্বেরও টেস্ট হয়।
কাগজে-কলমে বিমান প্রস্তুত থাকলেও বাস্তবের চিত্রটি ভিন্ন। হ্যাল জানিয়েছে, বর্তমানে ৫টি Mk1A বিমান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ডেলিভারির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, আরও ৯টি বিমান তৈরি রয়েছে। তাদের ফ্লাইট ট্রায়াল শেষ হলেও, ইঞ্জিনের অভাবে সেগুলি পড়ে আছে। কিন্তু কেন এই সমস্যা? সূত্রের খবর, মার্কিন সংস্থা GE Aerospace থেকে F404-IN20 ইঞ্জিন সরবরাহের ক্ষেত্রেই মূলত দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৫টি ইঞ্জিন ভারতে এসে পৌঁছেছে। বাকি ইঞ্জিনের ডেলিভারি নিয়ে আশ্বাস মিললেও, তা কবে আসবে তা নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারছে না। অন্যদিকে অস্ত্র পরীক্ষা সফল হওয়া মানেই অপারেশনাল ডেলিভারি শুরু নয়। এর জন্য প্রয়োজন CMAC (Centre for Military Airworthiness & Certification)-এর চূড়ান্ত ছাড়পত্র। এই ছাড়পত্র না মেলা পর্যন্ত ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) কোনো বিমানই নিতে পারবে না।