I PAC Case: ‘হোয়াটসঅ্যাপে সেদিন নির্দেশ এসেছিল’, ভরা এজলাসে চ্যাট দেখালেন তুষার মেহেতা, দেখেই বিরক্ত হলেন বিচারপতি
I PAC Case In Supreme Court: আদালতে হাইকোর্টে হওয়া শুনানি, আর সেই ঘটনাপ্রবাহের কথা তুলে ধরেন তিনি। সে সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কপি আদালতে দেখান তুষার মেহেতা। কপি পেশ করে মেহেতা বলেন, পার্টির লিগাল সেল মেসেজ করে জমায়েত করতে বলা হয়েছিল। এবিষয়ে হলফনামা পেশ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নয়া দিল্লি: I-PAC মামলায় সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ইডি-র হয়ে সওয়ালকারী সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহেতা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। সওয়ালের শুরুতেই তুষার মেহেতা I PAC কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডিজিপি রাজীব কুমারের ঢুকে পড়া ও তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তুষার মেহেতা।
ইডির তরফে আইনজীবী তুষার মেহেতা সওয়াল করেন, একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক কীভাবে উর্দি পরে সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তল্লাশির মাঝে ঢুকেছিলেন? ফাইল যখন খতিয়ে দেখছিল ইডি, তিনি কীভাবে সেটা সেখান থেকে নিয়ে আসেন?
এরপরই গত শুক্রবার হাইকোর্টে হওয়া এই মামলার শুনানি, আর সেই পর্বে গোটা ঘটনাপ্রবাহ এদিন সুপ্রিম এজলাসে তুলে ধরেন তিনি। বিচারপতির কাছে একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কপি দেখান তুষার মেহেতা। মেহেতা বলেন, সেদিন পার্টির লিগাল সেল মেসেজ করে জমায়েত করতে বলা হয়েছিল। তুষার মেহেতার বক্তব্য, হাইকোর্টে শুনানি আইনমন্ত্রী সেদিন পাঁচশো লোককে নিয়ে গিয়েছিলেন। সওয়াল জবাবের মাঝেই স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, শুনানি মুলতুবি হয়ে যায়। তারপরই বিচারপতির কাছে তাঁর প্রশ্ন, আদালত কি যন্তর মন্তরে পরিণত হয়েছে? তল্লাশির সময়ে তোলা বেশ কিছু ছবি ইডি আদালতে জমা করেছিল। ইডি-র দেওয়া ছবি বিচারপতিরা খতিয়ে দেখেন। গোটা বিষয়টি নিয়ে হলফনামা পেশ করবেন বলেও পরবর্তীতে জানিয়ে দেন তুষার মেহেতা।
ইডি-র আইনজীবী বক্তব্য শুনে বিচারপতিরা জানান, হাইকোর্টের ঘটনায় তাঁরা অত্যন্ত বিরক্ত। ঝামেলার কারণে কলকাতা হাইকোর্টে যে শুনানি হয়নি, তা মেনে নেন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কপিল সিববলও।
ইডি-র বক্তব্য, তদন্তের মাঝে এইভাবে হস্তক্ষেপ, এটা একটা প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে। যখনই কারোর বিরুদ্ধে তদন্ত হবে, তখনই হইহট্টগোল করে, গোটা বিষয়টাই ভন্ডুল করে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে তৎকালীন সিপি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে তল্লাশির সময়ে মুখ্যমন্ত্রী ধরনায় বসেছিলেন, সে সময়ে সিপিও ধরনায় বসেছিলেন, সেটা কীভাবে হতে পারে, প্রশ্ন তোলেন তুষার মেহেতা।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, সব থেকে বড় প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় এজেন্সি একটি স্বনিয়ন্ত্রিত সংস্থা, রাজ্য পুলিশ স্বনিয়ন্ত্রিত, তাদের সংঘাত কোনওভাবেই কাম্য নয়।
এরপর বিচারপতি নির্দেশ দেন, সব পক্ষকেই হলফনামা জমা দিতে হবে। ৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানি। এই ২ সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষকে হলফনামা দিতে হবে।
