
নয়া দিল্লি: আমেরিকা-ইজরায়েল Vs ইরান! এই আবহে গোটা বিশ্ব এখন তপ্ত। কিন্তু তারই মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে ভারত। বিশ্বে যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে ভারত তার নিজের শক্তিগুণে গোটা পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যাচ্ছে। TV9 নেটওয়ার্কের ‘হোয়াট ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুডে সামিট-২০২৬’ (What India Thinks Today Summit-2026) এর প্রাক্কালে এই বিষয়টিতেই আলোকপাত করলেন TV9 নেটওয়ার্কের এমডি এবং সিইও বরুণ দাস। আগামী ২৩-২৪ মার্চ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘হোয়াট ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুডে সামিট-২০২৬’ । এই অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে TV9 নেটওয়ার্কের এমডি এবং সিইও বরুণ দাস বলেন, “বিশ্বে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেও ভারত এক বিশাল শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গত এক বছর ধরে নানান ঘটনাপ্রবাহে বিশ্বব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। গত বছর এমন কিছু নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বিশ্ব, যেখানে শুল্ক বা ট্যারিফের ব্যবহার আগে কখনও এভাবে হয়নি। তবে ২০২৬-এর শুরুতে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধের সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কাগুলো সত্যিই প্রমাণিত হয়েছে। তাতেই গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে।”
TV9-এর এমডি এবং সিইও বরুণ দাস জানান, যদিও এই সংঘাত সরাসরি প্রভাব ভারতে পড়েনি, তবে বিশ্বে এর আঁচ অনুভূত হচ্ছে। নয়াদিল্লি থেকে নিউ জার্সি পর্যন্ত তার বিস্তৃত প্রভাব। জ্বালানি নিয়ে আজ গোটা দেশ উদ্বেগে।
বিশ্বের বর্তমান আবহকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বরুণ দাস বলেন, ভারত ও বিশ্বের উন্নয়নের মূল ভিত্তি এই জ্বালানি। যখন এই জ্বালানির ওপরেই কোপ পড়েছে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা, স্বাভাবিকভাবেই ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এই সময়ে তিনি ভারতের কৌশল নিয়েও কথা বলেন। তাঁর মতে, ভারতের কৌশল নীতির ওপর ভিত্তি করেই বাকি রাষ্ট্রগুলো স্থায়ী জোটের চেয়ে স্থায়ী স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করে। এই পরিস্থিতিতে এটা যথেষ্টই ইতিবাচক বলে তিনি মনে করেন।
বরুণ দাসের মতে, বর্তমানে ভারত ইতিহাসের এক অনন্য মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যখন বিশ্বে যুদ্ধের আবহ, অসম, হিংসার লড়াইয়ের আবর্ত থেকে নিজেকে বের করার চেষ্টা করছে, তখন অর্থনীতির বিচারে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি এমন এক দেশ, যা বিশ্বমঞ্চে নিজের কথা বলার জন্য ক্রমশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মূল ভাষণ
উল্লেখ্য যে, ২৩-২৪ মার্চ এই সামিটের প্রধান আকর্ষণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ। প্রধানমন্ত্রী মোদী তৃতীয়বারের জন্য এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। গতবার প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন ভারত’-এর রূপকল্প তুলে ধরেছিলেন।
এ বছরের সম্মেলনের মূল বিষয় ‘ভারত ও বিশ্ব’। অর্থাৎ বিশ্বের আঙিনায় ভারত। বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, ব্যবসায়িক নেতা এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর মূল ভাষণ ছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়াও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়ব সিং সাইনি, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এবং কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।
এই সম্মেলনে কর্পোরেট জগতের দিকপাল প্রফেসর রাম চরণ, মার্কাস ওয়ামবাক এবং এমএইচপি ইন্ডিয়া (একটি পোর্শে কোম্পানি)-র গ্রুপ সিওও ও সিইও বার্নড ও হোরম্যানের মতো বিশ্ব নেতারা অংশ নেবেন। এছাড়া ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং যোগগুরু বাবা রামদেবও এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।