
কলকাতা: রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত প্রাতঃরাশ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। প্রথমেই এই অনুষ্ঠানকে বয়কট করেছিল রাজ্যের শাসকশিবির। ফিরিয়ে দিয়েছিল আমন্ত্রণ। গত শুক্রবার শাসকদলের রাজ্যসভার মুখ্য সচেতক নাদিমুল হক রাষ্ট্রপতি ভবনে জানিয়েছিলেন, সোমবার তৃণমূলের নিমন্ত্রিত সদস্যেরা সেখানে যোগদান করবেন না। কিন্তু তারপরও সেই অনুষ্ঠানে পৌঁছে গেলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। রাষ্ট্রপতি বনাম তৃণমূল ‘ঠান্ডা লড়াইয়ের’ মাঝে তাপ বাড়ালেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ।
বছরে বেশ কয়েকবারই রাজনৈতিক দলের সাংসদদের নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে এই জলখাবার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। স্বাভাবিক ভাবেই চলতি অধিবেশনেও আয়োজন হয় সেই অনুষ্ঠানের। আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সাংসদদের। আমন্ত্রণ জানানো হয় তৃণমূলকেও। কিন্তু তা ফিরিয়ে দেয় রাজ্যের শাসক শিবির।
তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, রমজান মাস উপলক্ষে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা দিনভর উপবাস করেন। তাই এমন সময় সেই সব মানুষের ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে রাষ্ট্রপতির ডাকা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না তাঁরা। পাশাপাশি, দলের মুসলিম সাংসদদের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েও এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজি হয় না তৃণমূল শিবির।
কিন্তু সেই দলীয় শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে যান দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে রাষ্ট্রপতির প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন তিনি। যা ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। তৃণমূলের সংসদীয় ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায় বললেন, “দিদি বুঝবেন। সৌগতদা যে কাজগুলি করেন, দলের কাজের সঙ্গে কতটা যায় জানি না।” অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদকে কটাক্ষ করে মনোজ টিগ্গা বলেন, “সৌগত রায় মনে হয় দলের কথা মানছেন না। উনি তো বর্ষীয়ান সাংসদ, তারপরও দলের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করছেন।”
বর্তমানে সংসদে সবচেয়ে বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। নিজের দল তো বটেই, বিরোধী দলের সাংসদরাও যে তাঁকে সমীহ করেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে হয়তো সেই সাংসদীয় সৌজন্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ। মৌখিক ভাবে দেওয়া দলীয় নির্দেশিকাকে উপেক্ষা করেই যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে।
সর্বশেষ পাওয়া আপডেট অনুযায়ী, সৌগত রায়ের রাষ্ট্রপতি প্রাতঃরাশে যোগদানের ঘটনাকে দলবিরোধী হিসাবে দেখছে না তৃণমূল। সংসদীয় নেতৃত্বের দাবি, “রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ মেনে যাওয়া হবে কিনা তা প্রত্যেক সংসদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে দলের তরফে সাংসদদের কোনও নির্দেশ বা হুইপ জারি করা হয়নি। দলের লোকসভা এবং রাজ্যসভার দু’টি আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে। কোনও গ্রুপেই এ বিষয়ে কোন মেসেজ দেওয়া হয়নি। সৌগত রায় ছাড়া দলের অন্য কোনও সাংসদ রাষ্ট্রপতির প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। তাই এটা ওনার একেবারেই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”