
নয়া দিল্লি: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই জোর তরজা। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)-কে সরাতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। সংসদের দুই কক্ষেই নোটিস দিয়েছে তৃণমূল। জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে ১৯৩ জন সাংসদের সই সংগ্রহ করেছে রাজ্যের শাসক দল।
নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার অনেক আগে থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে। এসআইআর ইস্যুতেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করেছেন। এবার তাঁর অপসারণের জন্য প্রস্তাব পেশ করা হল লোকসভা ও রাজ্যসভায়।
প্রসঙ্গত, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের জন্য প্রস্তাব আনা হবে, এই কথাও জানিয়েছিল তৃণমূল। সেই মতোই প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। খারাপ ব্যবহার, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে।
তবে এর বাস্তবতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কারণ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সাংসদদের সমর্থনের প্রয়োজন। এখনও পর্যন্ত ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে তৃণমূল। রাতারাতি দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। তবে এই প্রস্তাব এনে কার্যত সমস্ত ভোটমুখী রাজ্যকে বার্তা দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে এমন কোনও প্রস্তাব নেওয়া হয়নি। অন্য কোনও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এত কঠোর পদক্ষেপ করেনি।
তৃণমূলের এই প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “প্রস্তাব আসবে, প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাবে। ওদের সমর্থন নেই। বিরোধীরা, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস চাইছে যেভাবে হোক, নির্বাচনে জিততে। ভোটাভুটি হলে প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাবে।”
সংবিধানের ৩২৪(৫) ধারায় বলা হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ সম্ভব। বিচারপতিদের যে প্রক্রিয়ায় ইমপিচমেন্ট করা যায়, সেভাবেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেও অপসারণ করা যায়। এর জন্য সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ করাতে হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থনের প্রয়োজন।