
নয়া দিল্লি: লোকসভায় পেশ হতে চলেছে রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল, ২০২৬। এই বিল পাশ হলে, কোনও ব্যক্তি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে নিজেকে রূপান্তরকামী হিসেবে ঘোষণা করতে পারবেন না। রূপান্তরকামী বা ট্রান্সজেন্ডার তকমা পেতে সুনির্দিষ্ট মেডিক্যাল প্রক্রিয়ার পর মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে। যদিও বিলের কথা সামনেই আসতেই তা নিয়ে আগেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। চাপানউতোর নাগরিক মহলেও।
যদিও সোশ্যাল জাস্টিস মন্ত্রকের যুক্তি, রূপান্তরকামী হিসেবে কারা পরিচিত হবেন তার সংজ্ঞা নির্ধারিত নেই। ফলে অনেক ভুয়ো রূপান্তরকামীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রকৃত রূপান্তরকামীরা বঞ্চিত হচ্ছেন সুবিধা পেতে। অন্যদিকে রূপান্তরকামী সংগঠনের অভিযোগ, এই সংশোধনীর মাধ্যমে তাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। রূপান্তরকামীদের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করা অনেক সংগঠনই বলছে, এই বিল লিঙ্গ স্বীকৃতির বিষয়কে সহজ করার পরিবর্তে দিনের শেষে আরও জটিল করে তুলছে। উল্টে তাঁদের মৌলিক অধিকারকেই খর্ব করা হচ্ছে।
গোটা দেশেই বড় অংশের রূপান্তরকামীদের মধ্যে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ক্ষোভের বাতাবরণ। একাধিক রাজ্য থেকে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। অনেক অন্দোলনকারী বলছেন, বিলটি কার্যকর হলে রূপান্তরকামী মানুষের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হবে। তাঁদের প্রয়োজনীয় অধিকার রক্ষা সম্ভব হবে না। ক্ষোভের আঁচ বাংলাতেও। আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ায় সোমবার বিক্ষোভ দেখান অনেক রূপান্তরকামী। প্রস্তাবিত বিলের প্রতিবাদে পথে নামেন প্রায় ৫০ জন রূপান্তরকামী অধিকার রক্ষা কর্মী। পোড়ানো হয় বিলের প্রতিলিপি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে আন্দোলন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারকে এই বিল আবার সংশোধন করতে হবে।