
গুরুগ্রাম: বায়োটেকনোলজির পড়ুয়া, বাড়ি থেকে দূরে থাকত। একাকীত্ব কাটাতেই ডেটিং অ্যাপে রেজিস্টার করেছিল। সেখান থেকে যে এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি। ১৯ বছর বয়সী যুবতীর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। লিভ ইন সঙ্গীর বীভৎস অত্যাচারের শিকার। এতটাই অত্যাচার করা হয় ওই যুবতীর উপরে যে বর্তমানে সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।
ত্রিপুরার বাসিন্দা ওই যুবতী। গুরুগ্রামে পড়াশোনা করত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে দিল্লির বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। কয়েক মাসের মধ্যেই তারা একসঙ্গে লিভ-ইনে থাকতে শুকু করে। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ে নিয়ে কথাবার্তাও এগোয়।
তবে ছন্দ কাটে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের প্ল্যানিং নিয়েই দুইজনের মধ্যে বচসা হয়। এরপরই অত্যাচার শুরু হয়। যুবতীর অভিযোগ, ওই যুবক তাঁকে প্রচন্ড মারধর করে। তাঁর মাথায় পিতলের বোতল দিয়ে আঘাত করে, বিভিন্ন ফার্নিচারের উপরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। এই অত্যাচার টানা তিনদিন ধরে চলে। এমনকী, অভিযুক্ত যুবক ওই যুবতীর যৌনাঙ্গে স্যানিটাইজার ঢেলে আগুনও ধরিয়ে দেয়! ছুরি দিয়েও হামলা করার চেষ্টা করে অভিযুক্ত।
বর্তমানে ওই যুবতী সঙ্কটজনক অবস্থায় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি। মেডিক্যাল পরীক্ষাতেও যুবতীর শরীরে একাধিক আঘাতের প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ নির্যাতিতার বয়ানের উপরে ভিত্তি করে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে যুবতী কোনওমতে তাঁর মাকে ফোন করে অত্যাচারের কথা জানালে, তারা ত্রিপুরা থেকে দিল্লি পুলিশে খবর দেন। প্রথমে যুবতীকে গুরুগ্রামের একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় প্রথমে তাঁকে দিল্লির এইমস ও পরে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শারীরিক অত্যাচার, ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত, আটকে রাখা, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক ও ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। নির্যাতিতার মা ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার অভিযোগও যোগ করতে বলেছেন।