WITT সামিটে ‘গ্লোবাল সাউথে’র উত্থান নিয়ে সাক্ষাৎকার দেবেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর
২০১৯-এর মে মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত হওয়ার আগে, বিদেশ সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ৬৯ বছরের এস জয়শঙ্কর। তাঁর আগে একমাত্র একজনই কূটনৈতিক জগৎ থেকে এসে বিদেশমন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি নটওয়ার সিং। TV9 নেটওয়ার্কের বার্ষিক সম্মেলন, 'হোয়াট ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুডে'-তে গ্লোবাল সাউথের উত্থান নিয়ে সাক্ষাৎকার দেবেন জয়শঙ্কর।

নয়া দিল্লি: ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি, নয়া দিল্লিতে হতে চলেছে TV9 নেটওয়ার্কের বার্ষিক সম্মেলন, ‘হোয়াট ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুডে’। এবারের সম্মেলনের মূল বিষয় হল, ‘ভারত: পরবর্তী বড় লাফ দিতে তৈরি’। এই বিষয়ে, ২৬ ফেব্রুয়ারি মূল বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার আগে, ‘রাইজ অফ দ্য গ্লোবাল সাউথ’ বা ‘গ্লোবাল সাউথের উত্থান’ বিষয়ে এক সাক্ষাত্কারে অংশ নেবেন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত কয়েক বছরে, বিশ্বব্যাপী যতই অর্থনৈতি এবং ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলির ক্ষেত্রে তাঁর মর্যাদা বেড়েছে, তিনি ততই বিশ্বজুড়ে ভারতের চমকে দেওয়া বৃদ্ধির কাহিনি প্রচার করেছেন।
ভারত কীভাবে ক্রমে বিশ্বব্যাপী নেতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করছে, তা তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর লেখা দুটি বই – ‘দ্য ইন্ডিয়া ওয়ে’ এবং ‘হোয়াই ভারত ম্যাটারস’-এ। এই দুই গ্রন্থে একদিকে তিনি ভারতের সমসাময়িক বিদেশ নীতিগুলি ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে, ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মতো নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিভিন্ন বৈপ্লবিক ধারণাগুলিও ব্যাখ্যা করেছেন। সামাজিক কল্যাণ, উত্পাদন বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নে এই ধারণাগুলির ভূমিকা তুলে ধরেছেন। তাঁর দ্বিতীয় বইয়ে জয়শঙ্কর বলেছেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের এই উত্থানের তিন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে – কিছু দেশ ভারতের উত্থানকে সম্মান করলেও, এর ফলে অস্বস্তিতে থাকবে। আরেক দল দেশ, ভারতের উত্থানের প্রশংসা করবে এবং ভারতের বৃদ্ধির কাহিনিকে অনুকরণ করতে চাইবে। তৃতীয় ধরনের দেশগুলি ভারতের সঙ্গে নতুন নতুন চুক্তি করতে চাইবে।
বস্তুত, জয়শঙ্করের বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরই, ভারতের বিদেশ নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ধরা পড়েছে। ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এক প্রধান শক্তি হিসেবে উত্থান হয়েছে ভারতের। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করাই হোক, কিংবা, ইউক্রেন-ইজরায়েলের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলি থেকে ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধার করা, বা, কাতার থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন কর্তাদের নিরাপদ দেশে ফিরিয়ে আনা, ভারতের বিদেশ সংক্রান্ত প্রতিটি পদক্ষেপেই এই পরিবর্তন ধরা পড়ছে।
২০১৯ সালে দ্বিতীয় মোদী সরকারের সময়, ভারতের বিদেশমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল জয়শঙ্করকে। তবে তার আগে, ৩৮ বছর ধরে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে কাজ করেছেন তিনি। বিদেশমন্ত্রী হওয়ার আগে, ২০১৫-র জানুয়ারি থেকে ২০১৮-র জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিদেশ মন্ত্রকের সচিব পদে। তার আগে, সিঙ্গাপুর, চেক প্রজাতন্ত্র, চিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসাবে কাজ করেছেন তিনি। ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল জয়শঙ্করের। তাঁর আগে, একমাত্র নটবর সিং-ই কূটনৈতিক জগত থেকে এসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী হয়েছিলেন। কূটনৈতিক পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর এবং মন্ত্রী হওয়ার আগে, অল্প সময়ের জন্য টাটা সন্সের গ্লোবাল কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রেসিডেন্ট হিসাবেও কাজ করেন জয়শঙ্কর। ২০১৯ সালে তাঁকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান, পদ্মশ্রী দিয়েছিল মোদী সরকার।
